নজিরবিহীন পদক্ষেপ! ফলপ্রকাশের পরও রাজ্যে অনির্দিষ্টকাল থাকবে ৫০ হাজার বাহিনী

central forces deployment

নয়াদিল্লি: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ‘রক্তপাতহীন’ ভোটের লক্ষ্যে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার আশঙ্কায় ফলপ্রকাশের পরও অনির্দিষ্টকালের জন্য পশ্চিমবঙ্গে মোতায়েন থাকছে প্রায় ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় জওয়ান। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা নয়া বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটের পরও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে থেকে যাবে।

কী বলা হয়েছে কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে?

ভোটের এক মাস আগে থেকেই রাজ্যে বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী রুটমার্চ শুরু করেছে। তবে কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্বাচন মিটে যাওয়ার পরও এই বিশাল বাহিনী রাজ্যে থেকে যাবে। এর মধ্যে ২০০ কোম্পানি জওয়ানকে শুধুমাত্র ইভিএম (EVM) এবং স্ট্রংরুমের নিশ্ছিদ্র পাহারার কাজে ব্যবহার করা হবে। বাকি ৩০০ কোম্পানি জওয়ানকে রাজ্যের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে বহাল রাখা হবে।

   

কেন এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত? নেপথ্যে কালিয়াচক central forces deployment

ভোট যত এগোচ্ছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর সামনে আসছে। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল মালদহের কালিয়াচকের ঘটনা। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিডিও অফিসে আটকে রেখে যে বেনজির তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তা গোটা দেশের নজর কেড়েছে। ওই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের কড়া ভর্ৎসনার পরই রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকদের শো-কজ করা হয়। বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত করছে এনআইএ এবং ইতিমধ্যে মূল অভিযুক্ত এক মিম নেতাকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কালিয়াচকের মতো এমন স্পর্শকাতর ঘটনা এবং অতীতের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই ভোট-পরবর্তী হিংসা এড়াতে আটঘাট বেঁধে নামতে চাইছে কমিশন। তবে ফলপ্রকাশের পরও এত বিপুল সংখ্যক বাহিনী অনির্দিষ্টকালের জন্য রেখে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কমিশনের ‘অতি-সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।