
কলকাতা/নয়াদিল্লি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে এবার এক চরম ও অভিনব কৌশল নিতে চলেছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)। অত্যাধুনিক ড্রোন বা সেন্সরের পাশাপাশি এবার নদী ও জলাভূমি সংলগ্ন সীমান্তে সাপ এবং কুমিরকে ‘প্রাকৃতিক প্রহরী’ হিসেবে কাজে লাগানোর কথা ভাবছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। (BSF border security natural guards)
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার এলাকাই নদীমাতৃক ও জলাভূমি। ভৌগোলিক কারণে এই অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া কার্যত অসম্ভব। ফলে এই উন্মুক্ত ও দুর্গম জলপথকে হাতিয়ার করেই রমরমিয়ে চলে অনুপ্রবেশ এবং বেআইনি কারবার। ড্রোন বা ইনফ্রারেড ক্যামেরার নজরদারি এড়িয়েও অনেক সময় পার পেয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। তাই এই নদী ও জলাভূমি এলাকায় কুমির ও বিষধর সাপ ছেড়ে প্রাকৃতিক বাধা তৈরির প্রাথমিক চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে বিএসএফের অন্দরে। ইতিমধ্যেই আধিকারিকদের এমন স্পর্শকাতর জায়গা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে, যেখানে এই পরিকল্পনা কার্যকর করা যায়। যদিও গোটা বিষয়টি এখনও আলোচনার স্তরেই রয়েছে।
সীমান্তে চোরাকারবারিদের রুখতে গিয়ে প্রতিনিয়তই হামলার মুখে পড়তে হয় জওয়ানদের। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই নদিয়ায় বিএসএফের ৩২ নম্বর ব্যাটালিয়ন প্রায় ১ কোটি টাকার সোনার বিস্কুট-সহ এক পাচারকারীকে পাকড়াও করে। এর আগে, গত নভেম্বরেও ওই নদিয়াতেই পাচারকারীদের ধারালো অস্ত্রের হামলার পালটা জবাবে বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু হয় এক বাংলাদেশি দুষ্কৃতীর। উদ্ধার হয় প্রচুর ফেন্সিডিল ও বিদেশি মদ। এই পরিস্থিতিতে কাঁটাতারহীন সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এবার এই ‘প্রাকৃতিক বাধা’র পথে হাঁটার কথা ভাবা হচ্ছে।

