বাংলায় ১–২ দফায় ভোটের দাবি বিজেপির, কমিশনের কাছে ১৬ দফা প্রস্তাব

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করল বিজেপির প্রতিনিধি দল৷ সোমবার কমিশনের কাছে ১৬ দফা…

Election Commission QR Code Security

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করল বিজেপির প্রতিনিধি দল৷ সোমবার কমিশনের কাছে ১৬ দফা দাবি তুলে ধরে বিজেপি৷ তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যে এত বেশি দফায় ভোটের প্রয়োজন নেই৷ বরং ১ থেকে ২ দফার মধ্যেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত৷

এই বৈঠকে বিজেপির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাপস রায়, শিশির বাজোরিয়া এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়৷ কমিশনের সঙ্গে প্রায় আধ ঘণ্টা আলোচনা করেন তাঁরা৷ বৈঠকে নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ভূমিকা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়৷

বিজেপির মতে, বহু দফায় ভোট হলে নির্বাচন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়৷ এতে প্রশাসনিক চাপও বাড়ে৷ তাই কম দফায় ভোট করালে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে৷ একই সঙ্গে সংবেদনশীল বুথগুলি চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তাবও কমিশনের কাছে রাখা হয়েছে৷

বৈঠক শেষে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “২০২৬ সালের নির্বাচন যাতে হিংসামুক্ত এবং ভয়মুক্ত হয়, সেই লক্ষ্যেই আমরা কমিশনের কাছে ১৬ দফা দাবি জানিয়েছি৷ শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে৷”

বিজেপির অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করছে, তা নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে৷ দলের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে৷ বিজেপির দাবি, ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে, কিন্তু তাদের সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না৷

এছাড়াও বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন নামে একটি সংগঠন ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলছে। তাই ওই সংগঠনের সব অফিস বন্ধ করার আবেদনও জানানো হয়েছে।

বিজেপি নেতা তাপস রায় বলেন, “২০১১ সালের পর থেকে রাজ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি বলে আমাদের অভিযোগ। অনেক জায়গায় ভোটারদের ভয় দেখানো হয়েছে। কোথাও কোথাও আঙুল কেটে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।”