হাড়কাঁপানো শীতের রাত। অনুপ্রবেশের অনুকূল।
পদ্মা পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন এক বাংলাদেশি যুবক (Bangladeshi intruder)। তাও আবার ঠান্ডা জলে সাঁতার কেটে। কিন্তু সেই অনুপ্রবেশই শেষ পর্যন্ত প্রাণ কেড়ে নিল তাঁর। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায়।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম রবিউল শেখ। বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তিনি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাতরসিয়া গ্রামের সূর্যনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা বলে নিজেই জেরার মুখে দাবি করেছিলেন। রবিবার গভীর রাতে, অর্থাৎ রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ, রঘুনাথগঞ্জ থানার পাতলাটোলা সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক ভাবে এক যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখেন ভাগীরথী আউটপোস্টের বিএসএফ জওয়ানেরা। সীমান্ত এলাকায় নজরদারির সময়ই তাঁদের চোখে পড়ে ওই যুবক।
বিএসএফ জওয়ানেরা তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। প্রাথমিক জেরায় রবিউল স্বীকার করেন যে তিনি অবৈধ ভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছেন। তিনি জানান, কনকনে শীতের মধ্যেই দীর্ঘ সময় ধরে পদ্মা নদী সাঁতরে তিনি এপারে আসেন। নদীর ঠান্ডা জল এবং প্রবল শীতের কারণে তাঁর শরীর ভীষণ ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
বিএসএফের দাবি অনুযায়ী, যুবককে আটক করার সময় তাঁর গায়ে পর্যাপ্ত পোশাক ছিল না। ঠান্ডায় তাঁর শরীর কাঁপছিল এবং কথাবার্তাতেও অসংলগ্নতা লক্ষ্য করা যায়। জওয়ানেরা বুঝতে পারেন, যুবকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আটক করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শরীরে খিঁচুনি শুরু হয় বলে দাবি বিএসএফের।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জওয়ানেরা তাঁকে গরম কাপড় পরিয়ে দেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার চেষ্টা করেন। প্রথমে তাঁকে বয়রাঘাট বিওপি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দ্রুত তাঁকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই পথেই যুবক সংজ্ঞা হারান।
জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিউল শেখকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, প্রবল শীত, দীর্ঘ সময় ঠান্ডা জলে থাকার ফলে হাইপোথার্মিয়া বা অতিরিক্ত ঠান্ডাজনিত সমস্যাতেই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছয়। বিএসএফের পক্ষ থেকে গোটা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পুলিশের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। পরে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় ফের অনুপ্রবেশ ও মানবপাচার সংক্রান্ত বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। কী কারণে রবিউল শেখ এভাবে জীবন বিপন্ন করে সীমান্ত পেরোতে চেয়েছিলেন, তিনি কোনও দালালের সাহায্য নিয়েছিলেন কি না, নাকি ব্যক্তিগত কোনও কারণ ছিল—এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
শীতের মরশুমে নদীপথে অনুপ্রবেশের ঘটনা নতুন নয়। তবে এই ঘটনায় এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু ফের প্রশ্ন তুলছে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং মানবিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।




















