কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে চরম নাটকীয়তা! ‘গোপন’ ভিডিও ফাঁসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙলেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় আর কোনও জোট নয়, এককভাবেই লড়াই করবে ওয়েইসির দল মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম)। শুক্রবার ভোরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কড়া বিবৃতি জারি করে জোট ভাঙার কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। পরে সেই পোস্টটি শেয়ার করেন ওয়েইসি নিজেও।
বৃহস্পতিবারই সাংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুনের একটি বিতর্কিত ভিডিও সামনে আনে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ, ওই ভিডিওতে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর মুখকে সমর্থন করার বিনিময়ে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকার ‘ডিল’ করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিমের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, “মুসলিমদের আত্মসম্মান ও মর্যাদার প্রশ্নে আপস করে, এমন কোনও বিবৃতির সঙ্গে দল নিজেকে জড়াতে চায় না। আজ থেকেই হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে জোট ছিন্ন করা হলো।” মিমের দাবি, ধর্মনিরপেক্ষতার মোড়কে গত কয়েক দশক ধরে বাংলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কেবল শোষিত ও অবহেলিত হয়েছে। তাই প্রান্তিক মানুষের হয়ে স্বাধীন রাজনৈতিক স্বর তুলতেই তাঁরা বাংলায় এককভাবে লড়বেন।
জোট ভাঙা নিয়ে অবশ্য বিশেষ বিচলিত নন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “ওয়েইসি সাহেবকে আমি ব্যক্তিগতভাবে সম্মান করি। নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ওঁর রয়েছে।” পাশাপাশি ভাইরাল ভিডিওটিকে তৃণমূলের কৃত্রিম মেধা (AI) নির্ভর কারসাজি বলে তোপ দেগেছেন তিনি। হুমায়ুনের পাল্টা হুঁশিয়ারি, ভিডিওর সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন। তাঁর দাবি, “আমি ভীত নই। রাজ্যের ১৮২টি আসনে আমার দল লড়বে এবং আমরা উল্লেখযোগ্য ফলাফল করব।”
গত ২৫ মার্চ কলকাতায় যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে এই জোটের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু মাস ঘোরার আগেই এই আচমকা ভাঙন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল। প্রথম থেকেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে আসছিলেন, মিম এবং হুমায়ুন আসলে বিজেপির ‘বি-টিম’, যাদের কাজ সংখ্যালঘু ভোট কেটে গেরুয়া শিবিরকে সুবিধা করে দেওয়া। এবার ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে হাজার কোটির ডিল-বিতর্ক এবং এই জোট-ভঙ্গ তৃণমূলের সেই দীর্ঘকালীন অভিযোগকেই যেন কার্যত মান্যতা দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।




















