“আমায় মেরে ফেলুক, তাও ময়দান ছাড়ব না!” মার খেয়ে বললেন অভিষেক

সোনারপুর: ভোট-পরবর্তী হিংসার বলি হওয়া দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শনিবার কামরাবাদে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল সাড়ে ৪টে। তবে…

abhishek banerjee said bjp want to kill me

সোনারপুর: ভোট-পরবর্তী হিংসার বলি হওয়া দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শনিবার কামরাবাদে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল সাড়ে ৪টে। তবে তিনি পৌঁছনোর ঢের আগে থেকেই সেখানে তৈরি ছিল প্রবল প্রতিরোধ। ঝাঁটা এবং কাঁচা ডিম হাতে রাস্তা আটকে দাঁড়িয়েছিলেন মহিলারা। তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতাকে সামনে দেখেই আছড়ে পড়ে ‘চোর চোর’ এবং ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান। (abhishek banerjee said bjp want to kill me)

বাইক ভাঙচুর ও নজিরবিহীন শারীরিক নিগ্রহ

গণরোষের আঁচ পেয়ে চারচাকা গাড়ি থেকে নেমে বাইকে চড়ে সঞ্জুর বাড়ির দিকে রওনা দেন সাংসদ। কিন্তু মাত্র কয়েকশো মিটার দূরেই তাঁর গতি রুদ্ধ করে দেয় উত্তেজিত জনতা। মুহূর্তে পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয়। রাস্তায় দুটি মোটরসাইকেল আছাড় মেরে ফেলে দেওয়া হয়। ভিড়ের মধ্যে অভিষেককে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি চালানো হয় বলে অভিযোগ, যার ধাক্কায় ছিঁড়ে যায় তাঁর সাদা শার্টের বোতাম। শেষমেশ চারদিক থেকে ধেয়ে আসা ডিম ও জুতোর আঘাত থেকে রক্ষা করতে নিরাপত্তারক্ষীরা তড়িঘড়ি তাঁর মাথায় একটি ক্রিকেট হেলমেট পরিয়ে দেন এবং ঘেরাটোপ তৈরি করে তাঁকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান।

   

“আদালতের দ্বারস্থ হব, বাংলায় কোনও গণতন্ত্র নেই”

এই নজিরবিহীন ও মারাত্মক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে প্রশাসনের ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ গলায় তিনি দাবি করেন, “ওরা আমাকে প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক, আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক। কিন্তু আমি জায়গা ছেড়ে যাব না। ঘটনাস্থলে একটাও পুলিশ ছিল না।” রাজ্যে আইনের শাসন বা গণতন্ত্রের কোনও অস্তিত্ব নেই বলে অভিযোগ তুলে এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি আদালতে যাওয়ার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কেন এই আকস্মিক বিস্ফোরণ?

ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে বিজেপি কর্মীদের ‘দেখে নেওয়া’র প্রচ্ছন্ন হুমকি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে মন্তব্য কিংবা ডিজে বাজানোর রূপক তৈরি করা, অভিষেকের সাম্প্রতিক একাধিক বয়ান নিয়ে আমজনতার একটা বড় অংশের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এদিন সোনারপুরে সেই পুঞ্জীভূত রাগেরই মুখোমুখি হতে হল তাঁকে।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিধানসভার সই-কাণ্ডের তদন্তে অভিষেকের কলকাতার বাসভবনে হানা দিয়েছিল রাজ্য সিআইডি। বেলেঘাটার কর্মসূচি সেরে সোনারপুর যাওয়ার পথেই নিজের কালীঘাটের বাড়ি থেকে সেই সিআইডি নোটিশ সশরীরে গ্রহণ করেন তিনি। ফলে শনিবারের দিনটি আইনি জটিলতা এবং মাঠের রাজনৈতিক সংঘাত, উভয় দিক থেকেই তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের কাছে অত্যন্ত ঝড়ো প্রমাণিত হল।