ঢাকা: বাংলাদেশের একজন সংসদীয় নির্বাচনী প্রার্থী প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, (Bangladesh)গত ৫৩ বছর ধরে রাজনীতিবিদরা নির্বাচনের সময় হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালিয়ে ভোট কুড়িয়েছেন। আর এখন যারা হিন্দুদের ওপর হামলা করে, তাদের ‘ইসলামের সৈনিক’ বলে সম্মান করা হয়। এই কথাগুলো একটি ভিডিওতে ধরা পড়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।
এই স্বীকারোক্তি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য একটা কঠোর বাস্তবতা উন্মোচন করেছে। এই প্রার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকেই এই কৌশল চালু আছে। নির্বাচনের আগে হিন্দু পাড়ায় হামলা, লুটপাট, মন্দির ভাঙচুর এসব করে একটা সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়ে ভোটের মেরুকরণ করা হয়। যারা এই হামলায় অংশ নেয়, তাদের পরে ‘ইসলাম রক্ষার যোদ্ধা’ হিসেবে প্রচার করা হয়, যাতে মূলধারার মুসলিম ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বাড়ে।
‘মাদার অফ অল ডিলস’র স্বাক্ষর, রপ্তানিতে ভারতের বড় সুযোগ
এই কথা শুনে অনেকে চমকে উঠেছেন, কারণ এটা আর গোপন কথা নয় একজন প্রার্থী নিজেই স্বীকার করছেন যে, এটা একটা পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল।বাংলাদেশে হিন্দুরা জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ। স্বাধীনতার পর থেকে তাদের সংখ্যা কমছে। অনেকে ভারতে চলে গেছেন, অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে।
মন্দির ভাঙা, বাড়িঘর লুট, এমনকি ব্যক্তিগত হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গ্রুপগুলো বলছে, এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে। এখন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের আগে এই স্বীকারোক্তি এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।এই ভিডিওতে প্রার্থী বলেছেন, “৫৩ বছর ধরে এভাবেই ভোট জেতা হয়েছে।
হিন্দু এলাকায় হামলা চালালে ভোট আসে।” আর যারা হামলা করে, তাদের এখন ‘ইসলামের সৈনিক’ বলে ডাকা হয়। এই কথা শুনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেক হিন্দু পরিবার বলছেন, নির্বাচনের সময় বাড়ি ছাড়তে হয়, না হলে হামলার শিকার হতে হয়। কেউ কেউ বলছেন, “আমরা ভোট দিতে যাই না, কারণ ভয় হয়।” এই পরিস্থিতিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলো হিন্দু ভোটারদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে।
বিএনপি বলেছে, সংখ্যালঘু সুরক্ষায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। জামায়াত এমনকি একজন হিন্দু প্রার্থীও মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু এসবের মধ্যেও সন্দেহ থেকে যায় কারণ অতীতে এই দলগুলোর সময়েও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ভারত সরকার বারবার বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছে, সংখ্যালঘু সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, এসব হামলা সাধারণ আইনশৃঙ্খলার সমস্যা, শুধু হিন্দুদের ওপর নয়। তবু পরিসংখ্যান বলছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ইউএন ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থা বলছে, এটা ‘জেন্ডার অ্যাপার্থাইড’-এর মতোই একটা প্যাটার্ন যেখানে রাজনৈতিক লাভের জন্য সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হয়।
এই স্বীকারোক্তি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্যও একটা লজ্জার বিষয়। যেখানে ভোটের রাজনীতি হিংসার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, সেখানে সত্যিকারের উন্নয়ন বা শান্তি আসে কীভাবে? সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, “আমরা শুধু নিরাপত্তা চাই, ভোটের হাতিয়ার হতে চাই না।” কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি উল্টো। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে হামলার ভয় বাড়ছে। অনেকে বলছেন, এই ঘটনা একটা জাতীয় লজ্জা যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে যায় না।




















