মুম্বই: বিজেপি শাসিত রাজ্যে ফের ছড়াল চাঞ্চল্য। (US citizens)পুনে শহরে পেঠ ও সদাশিব পেঠ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাইবেল-সংক্রান্ত পুস্তিকা বিতরণ এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারের চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন মার্কিন নাগরিককে পুলিশ আটক করেছে। পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে ধর্মীয় প্রচারে লিপ্ত হওয়ার অপরাধে তাদের ‘লিভ ইন্ডিয়া’ নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং ১০ মে-র মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ এপ্রিল সকালে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন আমেরিকান নাগরিক বয়স যথাক্রমে ৫৩, ৬৫ ও ৬৬ বছর এপ্রিল মাসের ১৯ থেকে ২১ তারিখের মধ্যে পর্যটক ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তাঁরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ইংরেজি, হিন্দি ও মারাঠি ভাষায় ছাপানো পুস্তিকা বিতরণ করছিলেন।
পুস্তিকাগুলিতে বিশ্বের বিভেদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে খ্রিস্টধর্মের বার্তা ও বাইবেলের উল্লেখ ছিল। একটি বেসরকারি ট্যাক্সি চালকের সঙ্গে তাঁরা কথা বলার চেষ্টা করেন এবং তাঁকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। সেই ট্যাক্সি চালক সতর্ক হয়ে তৎক্ষণাৎ পুলিশকে খবর দেন।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁদের ব্যাগেজ থেকে বিপুল সংখ্যক ধর্মীয় পুস্তিকা উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, এঁরা শুধু পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে আসেননি, বরং সক্রিয়ভাবে ধর্মপ্রচারে যুক্ত ছিলেন।
আরও দেখুনঃ দাপট দেখাচ্ছে কালবৈশাখী! আজও বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোন কোন জেলায় সতর্কতা?
ভারতের বিদেশিদের নিয়ম অনুসারে, পর্যটক ভিসায় আসা বিদেশিদের ধর্মীয় প্রচার, ধর্মান্তরণের চেষ্টা বা এ ধরনের কোনও কার্যকলাপ একেবারেই নিষিদ্ধ। এই নিয়ম লঙ্ঘন করায় পুনে পুলিশের ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এফআরও) সন্দীপ ভাজিভাকারে-র নেতৃত্বে তদন্ত চালানো হয়।তদন্তের পর পুলিশ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের অধীনে তিনজনকে ‘লিভ ইন্ডিয়া’ নোটিশ জারি করে। নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ১০ মে-র মধ্যে তাঁদের ভারত ছাড়তে হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এঁদের কার্যকলাপে স্থানীয় কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা পুস্তিকাগুলি বাজেয়াপ্ত করে রাখা হয়েছে।এই ঘটনা পুনের সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকে বলছেন, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হলেও, বিদেশিদের ভিসার নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। পর্যটক হিসেবে এসে কেউ যদি ধর্মীয় প্রচারে নেমে পড়েন, তাহলে তা স্থানীয় সংস্কৃতি ও আইনের প্রতি অসম্মান বলে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা সবার থাকলেও, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।পুনে পুলিশের এই পদক্ষেপকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা যাতে বারবার না ঘটে, সেজন্য বিদেশিদের ভিসা নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা উচিত। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সাধারণ মানুষ সহজে প্রভাবিত হতে পারেন, সেখানে নজরদারি বাড়ানো দরকার।




















