প্রসেনজিৎ চৌধুরী: “…সামনে ঘোর বিপদ। মেয়েটির নাম মীনাক্ষি মুখার্জি। গর্ব করার মতো মেয়ে। আপনারাই পারেন ওকে জিতিয়ে আনতে।” চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদারের (Tarun Majumdar) চিঠি পড়ে তীব্র রাজনৈতিক আলোচনা হলেও তাঁর আবেদন জনতার আদালতে নামঞ্জুর হয়। বিধানসভা ভোটের প্রতিকুল হাওয়ায় নন্দীগ্রাম থেকে হারলেও মীনাক্ষী কিন্তু রাজনৈতিক মঞ্চে এই মুহূর্তে রাজ্যে দ্বিতীয় আলোচিত নেত্রী (প্রথম অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)।
নবতিপর তরুণ মজুমদার কি তাঁর প্রজ্ঞা দিয়ে কিছুটা আঁচ করেছিলেন? ভোটপরবর্তী বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে আলোচনায় এই প্রসঙ্গ এসেছিল। কেন তিনি সেই চিঠিতে ‘সামনে ঘোর বিপদ’ লিখেছিলেন তাও পরে চর্চিত হয়েছে। তাঁর প্রয়াণের পরেও রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে থাকবে।


বাম জমানায় নন্দীগ্রামের ভূমিরক্ষা আন্দোলনের রক্তাক্ত ঘটনা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে একেবারে রাজনীতির ময়দান থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। একদা বাম ঘাঁটি পূর্ব মেদিনীপুরের সেই নন্দীগ্রাম থেকেই সিপিআইএম ফের শুরু করছিল। তখনও রাজ্যবাসী জানতেন না সিপিআইএমের এক ‘আগুনপাখি’ জন্ম নিতে চলেছে। রাজ্যের একদা বাঘ সিপিআইএম বিধানসভায় শূন্য হতে চলেছে এমন ধারণা কেউ করেননি।
নন্দীগ্রামে যে ২০০৭ সালে বামফ্রন্ট সরকারের পুলিশ গুলি চালায়নি সেটি ভোট প্রচারে গিয়ে বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তুমুল রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়টি সামনে রেখে ঠান্ডা প্রচার করেছিলেন মীনাক্ষী। ফলাফল মমতা, মীনাক্ষী দুজনকেই নিরাশ করে। বিজয়ী হন তৃণমূল ত্যাগী মমতার একদা ছায়াসঙ্গী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী।

ভোটে জয়ী না হলেও মীনাক্ষীর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার পারদ সূচক বাড়তে থাকে। গত পাঁচ দশকে পশ্চিমবঙ্গে যে কয়েকজন নারী রাজনীতিবিদ উঠে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে তীব্র জনমোহিনী ক্ষমতার অধিকারী একজনই-মমতা। তাঁর ধারপাশে না গেলেও সিপিআইএমের নেত্রী মীনাক্ষী রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। অবশ্য বাম জমানায় কিছুটা আলোচিত ছিলেন কংগ্রেসের দীপা দাসমুন্সি। তিনি বিলীন হয়ে গেছেন।




















