কলকাতা ডার্বি (Kolkata Derby) মানেই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, দুই প্রধানের আবেগ, ইতিহাস এবং লক্ষ লক্ষ সমর্থকের উৎসব। সেই মরশুমের প্রথম ডার্বির আগেই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এল বড় সুখবর। বহুদিনের দাবি মেনে এবার ডুরান্ড কাপে চালু হল কার্যত পেপারলেস টিকিট ব্যবস্থা। ফলে অনলাইনে টিকিট কেটে আর আলাদা করে সেটি রিডিম করতে হবে না। মোবাইলে থাকা এম-টিকিট দেখিয়েই সরাসরি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রবেশ করতে পারবেন দর্শকরা।
শনিবার বিকেল ৫টায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের মহারণ দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের ডুরান্ড কাপ। এই ম্যাচ ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু টিকিট সংগ্রহের পুরনো নিয়ম নিয়ে অনেকের মধ্যেই অসন্তোষ ছিল। অনলাইনে টিকিট কাটার পরও নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে হার্ড কপি সংগ্রহ করতে হত। সেই কারণে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করার পাশাপাশি অনেক সমর্থককে বাড়তি ভোগান্তির মুখেও পড়তে হতো।
এই পরিস্থিতিতেই রাজ্যের ক্রীড়া বিভাগের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হন। তাঁর হস্তক্ষেপের পর ডুরান্ড কর্তৃপক্ষ টিকিট ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, এখন থেকে অনলাইনে কেনা টিকিটের ক্ষেত্রেও আর রিডিম করার প্রয়োজন নেই। মোবাইলে থাকা এম-টিকিটই স্টেডিয়ামে প্রবেশের জন্য বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হবে।
প্রথমে এই সুবিধা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। ক্রীড়ামন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন, এবারের ডুরান্ড কাপে প্রথমবারের মতো পেপারলেস টিকিট ব্যবস্থা চালু হবে। সেই ঘোষণায় অনেকেই আশা করেছিলেন যে অনলাইনে টিকিট কিনলেই সরাসরি মাঠে প্রবেশ করা যাবে। কিন্তু পরে দেখা যায়, আগের নিয়মই কার্যকর রয়েছে এবং অনলাইনে টিকিট কাটার পরও হার্ড কপি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়।
অবশেষে সেই অবস্থার পরিবর্তন হল। শুক্রবার ডুরান্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, বৃহস্পতিবার থেকে যারা অনলাইনে ডার্বির টিকিট কিনেছেন, তাঁদের আর আলাদা করে টিকিট রিডিম করতে হবে না। এম-টিকিট দেখিয়েই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা যাবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার সমর্থকের সময় ও ভোগান্তি, দুটোই অনেকটাই কমবে।
অনেক বছর ধরেই কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা এই পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যখন দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও বড় বড় ইভেন্টে ডিজিটাল টিকিটের মাধ্যমেই প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে, তখন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ডার্বিতে এখনও হার্ড কপি সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা অনেকের কাছেই অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হচ্ছিল। অবশেষে সেই পুরনো ব্যবস্থার অবসান ঘটল।
নতুন এই উদ্যোগ শুধু সমর্থকদের সুবিধাই বাড়াবে না, ভবিষ্যতে ডুরান্ড কাপের টিকিট ব্যবস্থাকেও আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ডিজিটাল টিকিট ব্যবহারের ফলে জাল টিকিটের সম্ভাবনাও কমবে এবং প্রবেশ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে। স্টেডিয়ামের বাইরে অযথা ভিড় বা দীর্ঘ লাইনও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
বিশ্বকাপের উত্তেজনা শেষ হতেই ভারতীয় ফুটবলের নতুন মরশুম শুরু হচ্ছে কলকাতা ডার্বি দিয়ে। তার আগে সমর্থকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বড় উপহার। এখন আর টিকিট রিডিমের ঝক্কি নয়, মোবাইলে এম-টিকিট থাকলেই সরাসরি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করা যাবে মরশুমের প্রথম মহারণ। নতুন এই ব্যবস্থা সফলভাবে কার্যকর হলে ভবিষ্যতে ডুরান্ড কাপের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য ফুটবল প্রতিযোগিতাতেও একই ধরনের ডিজিটাল টিকিট ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত আকারে চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।





