
কলকাতা: রাজ্যে জমানা বদলের পরেই জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে বিগত জমানার দুর্নীতি ও সরকারি ত্রাণ চুরির ফাইল খোলার কাজ। এই আবহে সোমবার রাতে দুই ২৪ পরগনায় পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতা। বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এবং পাথরপ্রতিমার তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি গৌতম আড়িকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সরকারি ত্রাণসামগ্রী-সহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই জোড়া গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। (Two TMC leaders arrested in West Bengal relief corruption case)
হোটেলের ঘরে গা-ঢাকা, ব্যাগ ভর্তি ওষুধ ও ৮০ লক্ষ নগদ
উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই কাটমানি ও দুর্নীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই বেপাত্তা ছিলেন তিনি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে দীপঙ্করকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর কাছ থেকে নগদ ৮০ লক্ষ টাকা এবং পোশাক ও ওষুধভর্তি দুটি ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে, যা দেখে স্পষ্ট যে তিনি দীর্ঘদিনের জন্য গা-ঢাকা দেওয়ার ছক কষেছিলেন। এর আগে তৃণমূলের একটি কার্যালয় এবং একটি বাগানবাড়ি থেকে প্রায় ৪ হাজার সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় সিপিএম ও বিজেপি পৃথক দুটি এফআইআর (FIR) দায়ের করার পরেই পুলিশ তাঁকে জালে তোলে। মঙ্গলবারই তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হচ্ছে।
বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ, রাতভর তল্লাশিতে উদ্ধার কম্বল-ত্রিপল
অন্য দিকে, সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমার দূর্বাচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি গৌতম আড়ির বাড়ি থেকে সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ ছিল, ঝড়ের ত্রাণের জন্য আসা কম্বল, ত্রিপল, পান-বরজের চট এবং মাছের খাবার নিজের বাড়ির গুদামে লুকিয়ে রেখেছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। সোমবার রাতভর তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা।
পরিস্থিতি সামলাতে শেষমেশ পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সরকারি কর্তাদের উপস্থিতিতেই ঘরের তালা ভেঙে উদ্ধার হয় স্তূপীকৃত সরকারি সামগ্রী। সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের তরফে দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই গ্রেফতার করা হয় গৌতম আড়িকে।
রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক নীতি অনুযায়ী, সরকারি ত্রাণ নিয়ে কোনও রকম নয়ছয় বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। আর এই জোড়া গ্রেফতারি তারই প্রমাণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।













