অ্যাকশন মোডে শুভেন্দু! এবার বুলডোজার বিমানবন্দরের ভিতরকার ১৩৬ বছরের মসজিদে

কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অপারেশনাল এরিয়ার (Airport Mosque)ভিতরে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরীপুর জামে মসজিদ (ব্যাংকড়া মসজিদ) নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
kolkata-airport-mosque-controversy-runway-expansion

কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অপারেশনাল এরিয়ার (Airport Mosque)ভিতরে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরীপুর জামে মসজিদ (ব্যাংকড়া মসজিদ) নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বিমান চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি করে এমন কোনও স্থাপনা আর রাখা হবে না। এই মসজিদের কারণে সেকেন্ডারি রানওয়ের সম্প্রসারণ আটকে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

ফলে মসজিদ সরানো বা ভাঙার প্রক্রিয়া এবার গতি পেয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এএআই) দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে, মসজিদটি সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত এবং বিমানবন্দরের সীমানার ভিতরে প্রায় ১৫০ মিটার। এর ফলে রানওয়ের থ্রেশহোল্ড ৮৮ মিটার সরিয়ে রাখতে হয়েছে। ফগের সময় প্রাইমারি রানওয়ে বন্ধ থাকলে সেকেন্ডারি রানওয়ের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয় না।

   

আরও দেখুনঃ মোথাবাড়ি কাণ্ডে NIA র জালে আরও বিপজ্জনক ১৪

নিরাপত্তা, নেভিগেশন সিস্টেম এবং বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি এই ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সবার আগে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান এবার করতেই হবে। রাজ্য প্রশাসন ও এএআই-এর যৌথ টিম ইতিমধ্যে মসজিদ এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং মসজিদ কমিটির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে।

সেখানে মসজিদ সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।কিন্তু মসজিদ কমিটি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছে। সাবেক তৃণমূল মন্ত্রী ও জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের নেতা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিটি জানিয়েছে, তারা একা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। তারা দারুল উলুম দেওবন্দ, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এবং অন্যান্য বড় মুসলিম সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ঈদের আগে কোনও পদক্ষেপ করা উচিত নয়।

শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ পালনের পর বিস্তারিত আলোচনা হবে।এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীলতা বেড়েছে। একদিকে অনেকে মনে করছেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য এটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ আটকে থাকলে যাত্রীসুবিধা, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষতি হবে। অন্যদিকে ধর্মীয় নেতারা বলছেন, ঐতিহ্যবাহী মসজিদ সরানো হলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগবে।

তাঁরা বিকল্প জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও জোর করে ভাঙচুর করা হবে না। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাফ কথা নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।এই ইস্যু দীর্ঘদিনের। জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেও এটি উঠেছিল, কিন্তু সমাধান হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বেড়েছে বলে প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google