কলকাতা: মঙ্গলবার ভোরে শহর কলকাতার একাধিক প্রান্ত থেকে শুরু করে নিজের সংসদীয় এলাকা, সর্বত্রই যেন এক রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে ভরল দেওয়াল। সেখানে তাঁকে ‘চোর’ ও ‘বেইমান’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখা হয়েছে, ‘বেইমান আর চোরটা, নয়না দিদির বরটা’৷ আর এই পোস্টারকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল। কারণ, ওই প্রচারপত্রে নাম রয়েছে কুণাল ঘোষ ও তাপস রায়ের মতো পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি এই পোস্টার বা নেপথ্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তাঁরা?
পোস্টার ঘিরে শোরগোল ও দুই নেতার সাফাই
মঙ্গলবার সকালে এই পোস্টারগুলি প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। কে বা কারা রাতের অন্ধকারে এই ব্যানার সাঁটিয়ে গেল, সে নিয়ে স্থানীয় স্তরে যেমন ধোঁয়াশা রয়েছে, তেমনই অস্বস্তিতে পড়েছে রাজনৈতিক মহল। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হতেই মুখ খুলেছেন নাম জড়িয়ে যাওয়া দুই নেতাই।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি কুণাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই পোস্টারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগ নেই। তবে খোলামেলা স্বীকারোক্তিতে তিনি এও জানান, পোস্টারে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে তিনি একমত। কুণালের মন্তব্য, ‘‘আমি যা বলার জনসমক্ষে স্পষ্ট ভাষায় বলি। এই ধরনের পোস্টার দেওয়ার মতো রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা আমার নেই। তাছাড়া তাপস বাবু আর আমি তো ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে, একসঙ্গে প্রচারের তো প্রশ্নই ওঠে না!’’
অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়ের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা দলেরই অন্তর্দ্বন্দ্বের বলি করা হচ্ছে তাঁকে। অতীতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন সর্বজনবিদিত। সেই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে গোটা সমীকরণ গুলিয়ে দিতে সুকৌশলে তাঁর নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অতীতের সমীকরণ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, অতীতে এক ছাদের নিচে রাজনীতি করলেও সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন তাপস রায়। পরবর্তী সময়ে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি রাজ্যের মন্ত্রিত্ব পান। অন্যদিকে, দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘাসফুল শিবির ছেড়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বর্তমানে এনসিপিআই (NCPI)-এর ছায়ায় চলে গিয়েছেন।
শহরের বুকে এই বেনামি পোস্টার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জনের অন্ত নেই। একদিকে যখন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তরজা তুঙ্গে, তখন এই পুরো বিতর্ক নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি অভিযুক্ত সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে।
NEET আন্দোলনে আটক-গ্রেফতার ছাত্রদের অবিলম্বে মুক্তি দেবে বিহার প্রশাসন





