কলকাতা: রাত পোহালেই অপেক্ষার শেষ। দীর্ঘ টানাপোড়েন, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রচারের ঝড় শেষে সোমবার সকাল থেকেই শুরু হতে চলেছে (West Bengal Election 2026) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের গণনা। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে চলা তীব্র স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে এবার জনাদেশ প্রকাশ্যে আসবে। রাজ্যের রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ সবার নজর এখন একটাই দিকে, কে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার চাবিকাঠি হাতে পেতে চলেছে।
আরও পড়ুন: ব্যারাকপুর-দমদমের পর্যবেক্ষক রাজীব কুমারকে নিয়ে ক্ষোভ অর্জুনের
এই নির্বাচন ঘিরে (West Bengal Election 2026) ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে একাধিক নজির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যের ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। কারণ এবারের ভোটপর্বে একদিকে যেমন ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তেমনই অন্যদিকে দেখা গেছে তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। সাধারণত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে হিংসার অভিযোগ এক পরিচিত ছবি হলেও এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। দুই দফার ভোটেই কোনও মৃত্যুর খবর না আসা প্রশাসনের কাছে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজিরবিহীন মোতায়েন এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশিকার কারণে ভোট প্রক্রিয়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনিক মহলের।
আরও পড়ুন: কাজ হল না সিংহমে! ফলতার থমথমে পরিবেশে ভরসা কেন্দ্রীয় বাহিনী
এবারের নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় ছিল ভোটদানের হার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ ভোটদানের হার অনেক সময় নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করে থাকে। এবারের ভোটে সেই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ২০১১ সালে যেখানে ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৮৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা কমে ৮২.৬৬ শতাংশ এবং ২০২১ সালে আরও কমে ৮১.৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই সমস্ত পরিসংখ্যানকে ছাপিয়ে গিয়ে ভোটদানের হার ৯২ শতাংশেরও বেশি হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।
এই বিপুল ভোটদান রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এত বেশি সংখ্যক ভোটার বুথে পৌঁছানো মানে মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, বা শাসক ও বিরোধী উভয়ের প্রতিই নতুন করে বার্তা দেওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে।




















