বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে প্রথম দফার ভোটে নজর ছিল রাজগঞ্জ কেন্দ্রের দিকেও। (Swapna Barman)কারণ এই কেন্দ্র থেকেই প্রথমবার নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন। ভোটের দিন সকালেই পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বুথে পৌঁছে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। এরপর সাধারণ মানুষের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী।
ভোট দেওয়ার পর স্বপ্না বলেন, ভোট দেওয়া শুধু অধিকার নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বও। তাই তিনি পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন। প্রথমবার প্রার্থী হিসেবে ভোট দিতে পেরে তিনি আবেগাপ্লুত বলেও জানান। একই সঙ্গে সকল ভোটারকে অনুরোধ করেন, যেন তাঁরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন এবং দায়িত্ব পালন করেন। খেলার মাঠে দেশের নাম উজ্জ্বল করার পর এবার রাজনৈতিক ময়দানে নতুন ইনিংস শুরু করেছেন স্বপ্না।
আরও দেখুনঃ “চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা!” বুথ থেকে বেরোতেই আক্রান্ত অগ্নিমিত্রা, উত্তপ্ত হীরাপুর
দীর্ঘদিন অ্যাথলেটিক্সে সাফল্যের সঙ্গে লড়াই করলেও পিঠের চোটের কারণে তাঁর ক্রীড়া জীবন থমকে যায়। এরপর ২০২০ সাল থেকে তিনি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলে চাকরি করছিলেন। পরে সেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। যদিও চাকরি ছাড়াকে কেন্দ্র করে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তবু সব বাধা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেন তিনি।নির্বাচনে তাঁর হয়ে প্রচারেও নেমেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। বিশেষ করে অভিষেক ব্যানার্জী রাজগঞ্জে সভা করে স্বপ্নার সমর্থনে ভোট চান। ফলে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়ের ধারা বজায় রাখার দায়িত্ব অনেকটাই তাঁর কাঁধে এসে পড়েছে।
ভোটগ্রহণের দিন রাজগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল বলে জানা যায়। দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় ৬৩ শতাংশ ভোট পড়ে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বপ্না। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হওয়ায় তিনি কমিশন ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাতে চান। রাজগঞ্জের মানুষের উদ্দেশে স্বপ্নার আবেগঘন বার্তাও শোনা যায়। তিনি বলেন, তিনি এই এলাকারই ঘরের মেয়ে, তাই সকলের আশীর্বাদ চান। ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর অনুরোধ, চারপাশের পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোট দিন।
ভোট দিতে যাওয়ার সময় তাঁর মা-ও সঙ্গে ছিলেন। মেয়ের রাজনৈতিক জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার দিনে পাশে দাঁড়িয়ে তিনি রাজগঞ্জবাসীর কাছে আবেদন জানান, যেন সকলে স্বপ্নাকে আশীর্বাদ করেন। একসময় মাঠে দেশের জন্য পদক জিতেছিলেন স্বপ্না, এবার তিনি মানুষের সমর্থন জিতে নতুন দায়িত্ব নিতে চান। রাজগঞ্জের ভোটে সেই স্বপ্ন কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।




















