কলকাতা: নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। (Suvendu Adhikari)এই প্রেক্ষাপটে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হিংসার অভিযোগ তোলার পর সেই দাবি কার্যত খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ২০২১ সালের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে একাধিক পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন ২০২১ এ নির্বাচনের পরে মমতার নেতৃত্বে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়েছিল বাংলায়।
শুভেন্দু বলেন, “কোথায় হিংসা হচ্ছে, সেটা স্পষ্ট করে বলুন এলাকা, থানার নাম, বিধানসভা, জেলা সব তথ্য দিন। আমি সব প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত।” তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত বড় আকারের হিংসার ঘটনা ঘটেনি এবং যে অভিযোগগুলি এসেছে, সেগুলির অধিকাংশই ছোটখাটো ঘটনা।
আরও দেখুনঃ ‘কোনও নেতার ব্যক্তিগত মতামতের দায়ভার দলের নয়!’ বিবৃতি তৃণমূলের
তিনি আরও জানান, রাজ্যের পুলিশ মহাপরিদর্শক বা ডিজিপি তাঁকে জানিয়েছেন যে ৫০-৬০টি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, তবে সেগুলির বেশিরভাগই গুরুতর নয়। “১০০টি এফআইআরও দায়ের হয়নি,” বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরা হচ্ছে।
#WATCH | Kolkata, West Bengal: On incidents of post-poll violence in the state and TMC’s allegations, BJP leader Suvendu Adhikari says, “Tell me where all it is happening, tell me the number of area, the Police Station area, Assembly, district – the outgoing LoP is ready to… pic.twitter.com/UuAuj2pIsS
— ANI (@ANI) May 6, 2026
তবে নিজের বক্তব্যে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, কোনও ধরনের হিংসাকে তিনি সমর্থন করেন না। “আমি কোনও হিংসার পক্ষপাতী নই, কোনও হিংসাকে সমর্থন করি না,” এই বার্তা দিয়ে তিনি শান্তির পক্ষে অবস্থান জানান। কিন্তু একইসঙ্গে তৃণমূলের শাসনামলের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তৃণমূলের সময়ের হিংসার তুলনা করা উচিত নয়।”
এই প্রসঙ্গে তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সেই সময় বিজেপি ৩৫৫টি ‘সেফ হাউস’ তৈরি করতে বাধ্য হয়েছিল এবং প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল। সেই সময়কার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় অসমে গিয়ে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শুভেন্দু আরও বলেন, সেই সময় সিবিআই ৬১টি এফআইআর দায়ের করেছিল, যার মধ্যে ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগও ছিল। মোট প্রায় ১২,৫০০টি এফআইআর হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চান যে বর্তমান পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের মধ্যে একদিকে যেমন আত্মবিশ্বাসের সুর রয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগের পাল্টা জবাবও রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপির আলাদা করে হিংসার প্রয়োজন নেই, কারণ জনগণের সমর্থন ইতিমধ্যেই তাদের দিকে রয়েছে। “আমরা ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়েছি, ভবিষ্যতে তা ৬০ শতাংশে পৌঁছবে,”এই মন্তব্যে তাঁর রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই বক্তব্যকে সরাসরি নস্যাৎ করেছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও হিংসা চলছে এবং প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে দুই পক্ষের এই বিরোধে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।




















