ওয়াকফ নিবন্ধন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল শীর্ষ আদালত

নয়াদিল্লি, ১ ডিসেম্বর: দেশের ওয়াকফ সম্পত্তির ডিজিটাল নিবন্ধনকে নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। ওয়াকফ (সংশোধন) আইন, ২০২৫-এর অধীনে ওয়াকফ ...

By Rana Das

Published:

Follow Us
supreme-court-waqf-digital-registration-deadline-ruling

নয়াদিল্লি, ১ ডিসেম্বর: দেশের ওয়াকফ সম্পত্তির ডিজিটাল নিবন্ধনকে নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। ওয়াকফ (সংশোধন) আইন, ২০২৫-এর অধীনে ওয়াকফ সম্পত্তিগুলোর ছয় মাসের নিবন্ধন ডেডলাইন যা ৬ ডিসেম্বর শেষ হবে বাড়ানোর জন্য দায়ের করা একাধিক আবেদনপত্র প্রত্যাখ্যান করেছে। আদালত বলেছে, এমন অনুরোধের জন্য ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালের দরজায় যেতে হবে।

এই রায়টি ওয়াকফ বোর্ডগুলোর জন্য একটা বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ডেডলাইনের মুখোমুখি হয়ে লক্ষ লক্ষ সম্পত্তির ডিজিটাইজেশন এখনও অসম্পূর্ণ।আইনের ধারা ৩বি-এর অধীনে, ৮ এপ্রিল ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া এই সংশোধনী আইনটি সব ওয়াকফ সম্পত্তি এমনকি ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ ধরনের অফিসিয়াল ডিক্লারেশন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় বা দাতব্য কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিগুলো—কে কেন্দ্রীয় ইউএমইইডি (ইউনিফাইড ওয়াকফ ম্যানেজমেন্ট, এমপাওয়ারমেন্ট, এফিশিয়েন্সি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) পোর্টালে নিবন্ধন করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে।

   

‘তৃণমূল মমতা কেন্দ্রিক!’ সংসদে বিস্ফোরক কল্যাণ

এই পোর্টালটি ৬ জুন লঞ্চ করা হয়েছে, যা সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তির জিও-ট্যাগিং করে একটা ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সরকারের দাবি, এতে স্বচ্ছতা বাড়বে, দুর্নীতি কমবে এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। কিন্তু বাস্তবে, এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে ওয়াকফ বোর্ডগুলো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে—পোর্টালের টেকনিক্যাল গ্লিচ থেকে শুরু করে সম্পত্তির সার্ভে অসম্পূর্ণতা পর্যন্ত।

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ, যাতে ছিলেন জাস্টিস দীপঙ্কর দত্ত এবং জাস্টিস অগাস্টিন জর্জ মাসিহ, আবেদনকারী আইনজীবীদের যুক্তি শুনে স্পষ্ট করে বলেছেন, “যেহেতু আইনের অধীনে ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালে প্রতিকারের ব্যবস্থা আছে, তাই আবেদনকারীরা ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেখানে আবেদন করতে পারেন।”

আদালত আরও যোগ করেছেন, “যদি পোর্টালে টেকনিক্যাল সমস্যা হয়, যেমন টাইম ফ্রিজ হয়ে যায়, তাহলে আপনারা দায়ী নন। ট্রাইব্যুনাল যদি অনুমতি দেয়, তাহলে আপনাদের ছয় মাসের সময় গণনা করা হবে এবং আবেদন বিবেচনা করা হবে।” এভাবে আদালত সাধারণভাবে ডেডলাইন বাড়ানোর পরিবর্তে কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ট্রাইব্যুনালের উপর চাপিয়ে দিয়েছে।

আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন এআইএমআইএমের প্রধান এবং সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসি, যিনি আগেই এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে থাকেন। তাঁর আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট অভিষেক মনু সিংভি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, পোর্টাল লঞ্চ হওয়া এবং রুলস ফ্রেম হওয়ার মধ্যে অনেক দেরি হয়েছে, যার ফলে অনেক সম্পত্তির ডিজিটাইজেশন সম্ভব হচ্ছে না।

আরেকজন আইনজীবী নিজাম পাশা বলেছেন, রাজ্যগুলো ধারা ৪-এর অধীনে ওয়াকফ সম্পত্তির সার্ভে সম্পূর্ণ করেনি, তাই নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা জোর করে চাপানো যায় না। তবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, নিবন্ধনের ধারণা ১৯২৯ সাল থেকেই আছে এবং আইনটি সংসদীয় সিদ্ধান্ত।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Rana Das

Rana Das pioneered Bengali digital journalism by launching eKolkata24.com in 2013, which later transformed into Kolkata24x7. He leads the editorial team with vast experience from Bartaman Patrika, Ekdin, ABP Ananda, Uttarbanga Sambad, and Kolkata TV, ensuring every report upholds accuracy, fairness, and neutrality.

Follow on Google