নয়াদিল্লি: ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। (Sudarshan Chakra)প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)-এর চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারি ড. সমীর ভি কামাত জানিয়েছেন, দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ‘সুদর্শন চক্র’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন (ফিজিবিলিটি রিপোর্ট) তৈরি হয়ে গেছে। এখন এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে পাঠানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে লালকেল্লা থেকে ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ ঘোষণা করেছিলেন। এটি একটি বহুস্তরীয়, সমন্বিত এবং এআই-চালিত জাতীয় আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ছাতা হিসেবে পরিকল্পিত। শত্রুপক্ষের বিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল, ব্যালিস্টিক মিসাইল এমনকি হাইপারসনিক হুমকি থেকেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষিত করাই এর মূল লক্ষ্য।
আরও দেখুনঃ জইশের কমান্ডার আজহারকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা অজ্ঞাত পরিচয় ব্যাক্তির
ড. সমীর কামাত বলেছেন, “পুরো প্রোগ্রামটি বাস্তবায়িত হতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগবে। তবে এটি পর্যায়ক্রমে (ফেজওয়াইজ) মোতায়েন করা হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রথম পর্যায়ের কাজ আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই শুরু করা সম্ভব হবে। এই পর্যায়ে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দিল্লি-এনসিআর, কমান্ড সেন্টার, নিউক্লিয়ার ঘাঁটি, বিমানঘাঁটি, নৌবন্দর এবং জ্বালানি কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সুদর্শন চক্র শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়, এটি আক্রমণাত্মক ক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত হবে। এতে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক রাডার নেটওয়ার্ক, দীর্ঘ ও মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র, লেজার-ভিত্তিক অস্ত্র, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম এবং এআই-চালিত কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার একসঙ্গে কাজ করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভারতকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান হুমকি বিশেষ করে চীন ও পাকিস্তানের স্টেলথ প্রযুক্তি এবং হাইপারসনিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
ডিআরডিও এই প্রকল্পে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি উন্নত প্রযুক্তির ওপর কাজ করছে। প্রকল্পটি ‘অত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশীয় শিল্প, স্টার্টআপ এবং একাডেমিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় এটি বাস্তবায়িত হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংও ডিআরডিও-কে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে মূল ভূমিকা পালন করার দায়িত্ব দিয়েছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এত বড় মাপের প্রকল্প বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রযুক্তিগত জটিলতা, অর্থায়ন, সময়মতো উৎপাদন এবং তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এসব ক্ষেত্রে সতর্ক পরিকল্পনা প্রয়োজন। ড. কামাতের বক্তব্য অনুসারে, পর্যায়ক্রমে মোতায়েনের কৌশল এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সামলাতে সাহায্য করবে। প্রথম পর্যায় সফল হলে পরবর্তী ধাপগুলোতে গতি বাড়ানো যাবে।




















