দুবাই: পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। (Hormuz crisis)বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত রাষ্ট্রসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে প্রয়োজন হলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পরিস্থিতি আর কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা দ্রুত সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে।
এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের সাম্প্রতিক অবরোধ নীতি। গত এক মাস ধরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫% কমে গেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ইতিমধ্যেই বেড়ে ১০৯ থেকে ১১২ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় সতর্ক সংকেত।
আরও দেখুনঃ বাজারে ছড়িয়ে যাচ্ছে নকল ‘সেনসোডাইন’! রাজধানীতে গ্রেফতার ১
এদিকে, এই সংকটে আমেরিকা এবং ইসরায়েলের সরাসরি সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র অংশ হিসেবে তারা ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এই অভিযানকে কেন্দ্র করে ইরানও পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে।
ইতিমধ্যেই ইরান কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক তেল শোধনাগারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলা যদি আরও বাড়ে, তাহলে তা সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ব্রিটেনসহ প্রায় ৪০টি দেশ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এই জোটের লক্ষ্য হবে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন হলে সামরিক সহায়তা প্রদান করা। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব শুধুমাত্র পশ্চিম এশিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।




















