দিনকয়েক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ (Brazil vs Morocco)। তবে চিরাচরিত ভাবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার মতো হেভিওয়েটদের দিকে সর্বদাই বাড়তি নজর থাকে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুসারে ১৪ই জুন ভারতীয় সময় ভোর ৩টে বেজে তিরিশ মিনিট নাগাদ নিউ ইয়র্কের বুকে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে নেমেছিল সেলেসাওরা। যেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দল মরক্কো। সম্পূর্ণ সময়ের শেষে ১-১ গোলের অমীমাংসিত ফলাফলে শেষ হয় এই ফুটবল ম্যাচ।
আরও দেখুনঃ ১২টার ডেডলাইনের আগে তড়িঘড়ি বেরিয়ে পড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
এদিন মরোক্কোর হয়ে গোল পান ইসমাইল সাইবারি। অন্যদিকে, ব্রাজিলের হয়ে এবারের এই টুর্নামেন্টের প্রথম গোল পান ভিনিসিউস জুনিয়র। গোটা ম্যাচ জুড়ে উভয় দল একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও অধিকাংশই কাজে লাগাতে পারেননি ফুটবলাররা। নাহলে অন্যরকম হতে পারত ম্যাচের ফলাফল। বলাবাহুল্য, গত কাতার বিশ্বকাপ থেকেই যথেষ্ট নজর কেড়ে আসছে মরোক্কো। কাজেই এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য সকলের। অপরদিকে, পুরনো সব ভুলে সাফল্য পেতে মরিয়া কার্লো আনচেলত্তির ছেলেরা।
তবে এদিন প্রথম থেকেই যথেষ্ট দাপট ছিল প্রতিপক্ষ দলের। ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটে মরোক্কানদের গতিময় ফুটবল যথেষ্ট কোনঠাসা করে দিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বজয়ীদের। ব্রাহিম দিয়াজ থেকে শুরু করে আশরাফ হাকিমিদের ঝড়ের বেগে আক্রমণে একটা সময় অফকালার হয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। তবুও সুযোগ বুঝেই আক্রমণে উঠে আসছিলেন ভিনি থেকে শুরু করে লুকাস পাকেতার মতো ফুটবলাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই বাড়তি চাপ বাড়িয়ে বল নিয়ে উঠে এসেছিলেন সাইবারি। ২১ মিনিটের মাথায় দুরন্ত চিপ থেকে গোল করে মরোক্কো দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার এগিয়ে এসে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও সফল হননি।
যারফলে ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল প্রতিপক্ষ দল। তারপর ৩২ মিনিটের মাথায় উইং থেকে বল নিয়ে উঠে এসে মরোক্কোর রক্ষণভাগে হানা দিয়েছিলেন ভিনিসিউস। তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত শটে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। ফলাফল গিয়ে দাঁড়ায় ১-১ গোল। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত চার মিনিট সময় সংযুক্ত করা হলেও আর গোলের দেখা মেলেনি। তারপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গতিময় ফুটবল খেলতে শুরু করে ব্রাজিল। ম্যাচের বয়স বাড়ার সাথে সাথেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ব্রাজিল। প্রায় দুইবার প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন রাফিনিয়া। কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি। কোনও রকমে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন ইয়াসিন বোনো।
এছাড়াও সুযোগ নষ্ট করেন ড্যানিলো। অপরদিকে নির্ধারিত নব্বই মিনিটের শেষ লগ্নে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসে গিয়েছিল মরোক্কোর কাছে। কিন্তু বল গোলে রাখতে পারেননি নেল ইয়োনি। অ্যালিসনের দৌলতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত ১০ মিনিট সময় সংযুক্ত করা হয়েছিল ম্যাচ রেফারির তরফে। হাকিমিরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করলেও গোলের মুখ আর খুলতে পারেননি। যারফলে অমীমাংসিত ফলাফল দিয়েই অভিযান শুরু করল দুই শিবির।



