বিট্টু দত্ত, কলকাতা: উলুবেড়িয়ায় কচিকাঁচাদের ব্যাডমিন্টন (Badminton ) প্রতিভা তুলে ধরতে শুরু হয়েছে তিন দিনের রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতা। উলুবেড়িয়া পুরসভার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বানিতলায় মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই আসর চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। আয়োজকদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুদে শাটলারদের উপস্থিতিতে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে রাজ্যের ১৯টি জেলার দুই শতাধিক বালক ও বালিকা। ৯ ও ১১ বছরের নীচে—এই দুই বিভাগে খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, ছোটদের মধ্যে ব্যাডমিন্টনের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে এবং সেই আগ্রহকে সঠিক দিশা দিতেই এই উদ্যোগ। তিন দিন ধরে একাধিক ম্যাচের মাধ্যমে সেরা প্রতিভাদের বেছে নেওয়া হবে। মঙ্গলবার প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলা সভাপতি দেবাশীষ সামন্ত। উপস্থিত ছিলেন এলাকার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিজেপি নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁরা খেলাধুলার প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং শিশুদের নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বড় মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার আহ্বান জানান।
প্রতিযোগিতা ঘিরে খেলোয়াড় ও অভিভাবকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই সকাল থেকেই ভেন্যুতে উপস্থিত হয়ে ম্যাচ উপভোগ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফল প্রতিযোগীদের হাতে ট্রফি ও আর্থিক পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিশুদের উৎসাহ বাড়াতে বিভিন্ন উপহারও দেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শুধু প্রতিভা বিকাশের সুযোগই দেয় না, বরং শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাবও গড়ে তোলে।
তিন দিনের এই আসরকে কেন্দ্র করে বানিতলায় কার্যত ক্রীড়া-উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। খুদে খেলোয়াড়দের ঝলমলে পারফরম্যান্সে আগামী দিনে রাজ্যের ব্যাডমিন্টন আরও সমৃদ্ধ হবে বলেই আশা করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। উলুবেরিয়ার শাটলার রোহিত বলছিলেন “আমি কয়েক মাস ধরেই এই প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখানে এসে বিভিন্ন জেলার খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলতে পেরে খুব ভালো লাগছে। জিততে পারলে অবশ্যই খুশি হব, তবে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
খেলোয়াড় রাহুল সেনের কথায় “প্রথমবার রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছি। শুরুতে একটু নার্ভাস লাগছিল, কিন্তু কোর্টে নামার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি। কোচ ও পরিবারের সমর্থন আমাকে অনুপ্রাণিত করছে। ভবিষ্যতে বড় মঞ্চে খেলার স্বপ্ন নিয়েই আমি এগিয়ে চলেছি।”





