বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে (Team India) নতুন অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়স আইয়ারের যাত্রা একেবারেই সুখকর হল না। বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও হেরে ০-২ ব্যবধানে সিরিজ খোয়াল ভারত। টানা ১৬টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর এই হার ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য বড় ধাক্কা। মাত্র ১ রানে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়ল আয়ারল্যান্ড, আর ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে শুরু হল তীব্র সমালোচনা।
টসে জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শ্রেয়স আইয়ার। প্রথম ম্যাচে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে বাদ দিয়ে দলে নেওয়া হয় অভিষেককারী প্রিন্স যাদব ও সূর্যাংশ শেডগেকে। নতুন বল হাতে প্রিন্স যাদব নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দেন। সুইং কাজে লাগিয়ে ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে তিনি ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার হন। শিবম দুবেও ২টি উইকেট নেন, অর্শদীপ সিং দুটি এবং হর্ষিত রানা একটি উইকেট পান। তবে সূর্যাংশ শেডগে নিজের প্রথম ম্যাচে যথেষ্ট খরুচে প্রমাণিত হন।
আয়ারল্যান্ডের হয়ে হ্যারি টেক্টর ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। বেন কালিটজও ৩৭ রান যোগ করে দলের সংগ্রহ ১৫৪ রানে পৌঁছে দেন। লক্ষ্য খুব বড় না হলেও ভারতীয় ব্যাটিং সেই রান তাড়া করতে গিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
ভারতের শুরুটাই ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা দু’জনেই শূন্য রানে ফিরে যান। এরপর অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও মাত্র ১০ রান করে আউট হন। তিনটি উইকেটই তুলে নেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আয়ারল্যান্ডের পেসার জয় মুন্দ্রা। কিছুক্ষণের মধ্যেই রান আউট হয়ে ফেরেন ঈশান কিষান। মাত্র ১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর থেকেই ভারত চাপে পড়ে যায়।
বৃষ্টির জন্য কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকার পর অক্ষর প্যাটেল ও তিলক বর্মা দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন। অক্ষর ২০ রান করে আউট হন। শিবম দুবে ১৫ বলে ২০ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। একমাত্র তিলক বর্মাই শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ভারত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। শেষ বলে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর মাত্র ১ রানে জয় ছিনিয়ে নেয় আয়ারল্যান্ড।
এই পরাজয়ের পর ভারতীয় দলের ব্যাটিং নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ওপেনিং বিভাগ ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হওয়ায় ১৫ বছর বয়সি প্রতিভাবান ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীর অভিষেকের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। অনেকের মতে, নতুন প্রতিভাকে সুযোগ দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। তবে সামনে ইংল্যান্ড সফর এবং সেখানে সুইং ও বাউন্স সহায়ক পরিবেশে এত কম বয়সি ক্রিকেটারকে খেলানো হবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কোচ গৌতম গম্ভীর ও টিম ম্যানেজমেন্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের।



