কাশ্মীরে জঙ্গি দমন অভিযানে সেনার বিশেষ পদক্ষেপ

কাশ্মীরে(kashmir) শীতকালীন তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। বিশেষ করে ২১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়টিকে কাশ্মীরে বলা হয় ‘চিল্লাই কালান’। এই সময়ে কাশ্মীরের অনেক অঞ্চল প্রচণ্ড ঠান্ডায় আবদ্ধ ...

By Suparna Parui

Published:

Updated:

Follow Us
Special Army Action Launched Against Militants in Kashmir

কাশ্মীরে(kashmir) শীতকালীন তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। বিশেষ করে ২১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়টিকে কাশ্মীরে বলা হয় ‘চিল্লাই কালান’। এই সময়ে কাশ্মীরের অনেক অঞ্চল প্রচণ্ড ঠান্ডায় আবদ্ধ থাকে এবং পাহাড়ি এলাকায় তুষারপাত হয়ে যায়। শীতের এই প্রাকৃতিক পরিস্থিতি কেবল স্থানীয় জনজীবনকে প্রভাবিত করে না, বরং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপরেও সরাসরি প্রভাব ফেলে। জঙ্গিরা এই সময়ে সীমান্ত পেরোনো বা এলাকায় ঢুকে পড়ার চেষ্টা করতে পারে বলে ভারতীয় সেনা এই সময়কে কাজে লাগিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

প্রতিবছর চিল্লাই কালান শুরু হওয়ার আগে সেনাবাহিনী বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করে। কাশ্মীরের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শীতকালে কঠিন আবহাওয়ার সুবিধা নিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠী সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা করলে তা দ্রুত শনাক্ত করা যায় এবং প্রতিরোধ করা যায়। এই প্রক্রিয়ায় সেনা তাদের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পরিবেশের জ্ঞান কাজে লাগায়।

   

২০২৫ সালের এই চিল্লাই কালান সময়ে ভারতীয় সেনা এই বিশেষ অভিযানে প্রায় দুই হাজার জওয়ানকে অংশগ্রহণ করিয়েছে। অভিযানটি বিভিন্ন উচ্চাভিলক্ষ্য অঞ্চলে পরিচালিত হচ্ছে। সেনা টহল, পর্যবেক্ষণ এবং নজরদারির মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো অপ্রয়োজনীয় প্রবেশ প্রতিহত করছে। পাশাপাশি, পাহাড়ি এলাকা এবং বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ যন্ত্রপাতি ও হালকা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেনা সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়।

বিশেষভাবে, চিল্লাই কালান সময়ে সীমান্তে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তুষারপাত এবং কঠোর ঠান্ডা জঙ্গিদের চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। সেনা এই প্রাকৃতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়াও, স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে সীমান্ত এবং ভেতরের এলাকা পর্যবেক্ষণ করছে। এই সমন্বয় জঙ্গি দমন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে তোলে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চিল্লাই কালান সময়ে বিশেষ অভিযান চালানোর প্রধান লক্ষ্য হলো সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করা। এই সময়ে তুষারপাত ও তীব্র ঠান্ডার কারণে স্থানীয় এবং সীমান্তবর্তী এলাকা প্রায়শই নির্জন হয়ে যায়। জঙ্গিরা এই সময়ে নিজেদের কর্মকাণ্ডকে গোপন রাখতে চেষ্টা করে, কিন্তু সেনার বিশেষ অভিযান তাদের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে। কাশ্মীরের এই বিশেষ অভিযান কেবল সীমান্ত সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক। চলমান চিল্লাই কালান সময়ে পাহাড়ি এলাকার জনজীবন কিছুটা কঠিন হলেও সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী সচেতন থাকায় সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকে। সেনা সদস্যরা টহল এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য হুমকি দূর করতে সক্ষম হয়।

 

 

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।