ষোলা সাল বাদ! এমবাপেদের উড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) ফাইনালে স্পেন! ২০১০ সালের সেই সোনালি অধ্যায়ের পর, এমবাপে-দেম্বেলেদের মতো তারকাখচিত ফরাসি দলকে…

spain-beat-france-reach-fifa-world-cup-final-after-16-years

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) ফাইনালে স্পেন! ২০১০ সালের সেই সোনালি অধ্যায়ের পর, এমবাপে-দেম্বেলেদের মতো তারকাখচিত ফরাসি দলকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট ছিনিয়ে নিল স্প্যানিশ আর্মাডা। মিকেল ওয়ারজাবালের নিখুঁত পেনাল্টি এবং পেদ্রো পোরোর অনবদ্য ফিল্ড গোল ফরাসিদের টানা তৃতীয়বার প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন চুরমার করে দেয়। তবে গোলের থেকেও বেশি নজর কাড়ল স্পেনের মাঝমাঠের আধিপত্য। ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে কার্যত বোতলবন্দি করে রেখে স্পেনের এই জমাট ফুটবলই এদিন ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে মাঝমাঠের দখল নেওয়ার তীব্র লড়াই দেখা যায়। নবম মিনিটেই কড়া ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ফ্রান্সের মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন র‍্যাবিও। প্রথমার্ধের ২০ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্তটি আসে। নিজেদের পেনাল্টি বক্সে স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালকে ফাউল করে বসেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস ডিগনে। ২২ মিনিটে স্পট-কিক থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল সরাসরি জালের ডান দিকের ওপরের কোণায় জড়িয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল।

গোল হজম করে ফ্রান্স যখন আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই ৩০ মিনিটে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন নির্ভরযোগ্য ফরাসি সেন্টার ব্যাক উইলিয়াম সালিবা। বাধ্য হয়েই সালিবার জায়গায় ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্সকে নামান ফরাসি কোচ। প্রথমার্ধের একেবারে শেষে ৪৩ মিনিটে স্পেনের আইমেরিক লাপোর্তের চোটের কারণে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। প্রথমার্ধ শেষ হয় স্পেনের ১-০ লিডেই।

আরও পড়ুন: এমবাপের পাশে ইয়ামাল, বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে কড়া জবাব

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাঝমাঠে গতি আনতে র‍্যাবিওর বদলে মানু কোনেকে মাঠে নামায় ফ্রান্স। তবে তাতেও স্পেনের সুসংগঠিত পাসিং ফুটবলের সামনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি তারা। উলটে ৫৮ মিনিটে দানি ওলমোর সাজিয়ে দেওয়া বল থেকে বক্সের মাঝখান থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে স্পেনের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন পেদ্রো পোরো। এই গোলটি ফরাসি শিবিরের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেয়। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া ফ্রান্স থিও হার্নান্দেজ, রায়ান চেরকি এবং ডেসিরে ডুয়েকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণে বৈচিত্র্য আনার মরিয়া চেষ্টা করে।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে প্রথমবার সেমিফাইনালে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলের মহারণ

অন্যদিকে, ২-০ লিড ধরে রাখতে ফেরান তোরেস, মিকেল মেরিনো, পেদ্রি এবং মার্কোস লোরেন্তেকে নামিয়ে রক্ষণ ও মাঝমাঠ আরও নিশ্ছিদ্র করে তোলে স্পেন। ফরাসিদের হতাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে ৮৬ মিনিটে, যখন কিলিয়ান এমবাপে মেজাজ হারিয়ে স্প্যানিশ গোলরক্ষককে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন। ইনজুরি টাইমে উসমান দেম্বেলের দুটি জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দিয়ে স্পেনের জাল অক্ষত রাখেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।

এই ২-০ গোলের জয় শুধু স্পেনকে ১৬ বছর পর ফাইনালেই পৌঁছে দিল না, দলের ট্যাকটিক্যাল শ্রেষ্ঠত্বও প্রমাণ করল। দানি ওলমো এবং লামিন ইয়ামালের প্লে-মেকিং স্পেনের আক্রমণের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, এমবাপে, দেম্বেলেদের মতো বিশ্বমানের তারকা থাকা সত্ত্বেও গোলমুখে ফ্রান্সের এই চরম ব্যর্থতা কিছুটা অবাক করেছে ফুটবলপ্রেমীদের।