বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ফুটবল আর বাঙালির সম্পর্ক যেন আবেগের বন্ধনে বাঁধা। ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) এলেই কলকাতার অলিগলি থেকে ছাদ, সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে উন্মাদনা। এবার সেই আবেগকে সম্মান জানিয়ে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিল দক্ষিণ কলকাতার এক নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার সুযোগ করে দিতে পিছিয়ে দেওয়া হলো স্কুলের নির্ধারিত পরীক্ষার সূচি।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলের একটি বিজ্ঞপ্তি। সেখানে জানানো হয়েছে, ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে চলা ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে পড়ুয়াদের প্রবল আগ্রহের কথা বিবেচনা করে ২০ ও ২১ জুলাইয়ের পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা ও পিরিয়ডিক অ্যাসাইনমেন্ট স্থগিত করা হচ্ছে। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী, ২০ জুলাইয়ের পরীক্ষা হবে ২৯ জুলাই এবং ২১ জুলাইয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে ৩০ জুলাই। এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য।
স্কুলের অধ্যক্ষ জয়দেব ঘোষ জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দেওয়া নয়; বরং ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করা। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মোবাইল গেমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে। ফলে মাঠের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরা প্রয়োজন।
অধ্যক্ষের কথায়, মাঠের খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক মেলবন্ধন গড়ে তুলতে সাহায্য করে। বিশেষত ফুটবল একটি দলগত খেলা, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিশ্বাসই সাফল্যের চাবিকাঠি। সমাজজীবনেও এই মূল্যবোধ সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে দলগত চেতনা ও খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
জয়দেব ঘোষ আরও জানান, সারা বছর ধরেই বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণের জন্য ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করা হয়। স্কুলের নিজস্ব খেলার মাঠ না থাকলেও, ক্রীড়াচর্চাকে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দেখা হয়। তাঁর আশা, এই ধরনের উদ্যোগ অন্তত কিছু শিক্ষার্থীকে মোবাইলের পর্দা ছেড়ে মাঠমুখী করবে।
স্কুলের এই মানবিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তে খুশি অভিভাবক এবং পড়ুয়ারা। অনেকেই ই-মেলের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব যে সমান, সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলের এই পদক্ষেপ যেন সেই বার্তাই নতুন করে তুলে ধরল। বিশ্বকাপের আবেগকে হাতিয়ার করে আগামী প্রজন্মকে মাঠে ফেরানোর এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে শহর জুড়ে।





