Friday, February 3, 2023

মেসি-রোনাল্ডো-নেইমারের ‘হাসি কান্না হীরাপান্না’ ফুটবল শুধু ছবি, ভ্যানিশ হচ্ছে স্টেডিয়াম ৯৭৪

- Advertisement -

সুজানা ইব্রাহিম মোহনা, দোহা: হাসি কান্নার ফুটবল। হীরাপান্নার ফুটবল। কত ছন্দ দুলেছিল। সব অতীত। চোখের সামনে তিল তিল করে গড়তে দেখেছিলাম যে  (Stadium 974) স্টেডিয়াম ৯৭৪, সেটি এবার ভ্যানিশ হয়ে যাচ্ছে। এই খবরটা লিখছি একদম স্টেডিয়ামের পাশে একটা কন্টেনারে বসে। বহু পড়া আনন্দমঠ উপন্যাসের সেই বাক্যগুলো মনে পড়ছে-গ্রামখানি গৃহময় কিন্তু লোক দেখিনা! এখানে আর কোনও দেশের সমর্থক নেই। হু হু করে পারস্য উপসাগরের নোনা হাওয়া বইছে। বেশি দূর নয় রাশ আল আবদ বন্দর।  (Qatar Wc) কাতার বিশ্বকাপে মেসি-রোনাল্ডো-নেইমারের হীরাপান্না মাখা খেলার মুহূর্তগুলো যেমন চির অম্লান হয়ে থাকবে তেমনই জনতার হাসি-কান্নাগুলো থেকে যাবে। শুধু ছবিতে থাকবে স্টেডিয়াম ৯৭৪। এই স্টেডিয়ামটা খুলে নেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গেল।

অনেক উঁচুতে একটা বিরাট ক্রেনের মাথায় দু তিনজনকে দেখছি। তারা স্টেডিয়াম খোলার কাজে তদারকি করছেন। স্টেডিয়ামের মোট ৯৭৪টি কন্টেনার খোলা হবে। তারপরেই এই মাঠ মুছে যাবে বিশ্ব থেকে। স্টেডিয়ামটির নামের পিছনে আছে কাতারের আইএসডি কোড ৯৭৪ সংখ্যাও।

- Advertisement -

কাতারে আছি দু দশকের বেশি। এ দেশের নগরায়ণ বিজ্ঞানের যে দুরন্ত কর্মযজ্ঞ দেখেছি তার পাশে বিশ্বকাপের আয়োজনকে মনে হয়েছে ছেলে খেলা। বিপুল অর্থ ও ভিনদেশি শ্রমিকদের তীব্র কষ্টকর পরিস্থিতির মাঝে রেখে বিশ্বকাপ পরিকাঠামোগত নির্মাণ চরম বিতর্কিত। কমপক্ষে ৬ হাজারের বেশি শ্রমিক মারা গেছেন। এই তালিকায় নেপালি,ভারতীয়, বাংলাদেশি, পাকিস্তানিরা বেশি। এরকমই বহু শ্রমিকের হাতে হাতে ও যন্ত্রের সাহায্যে গড়ে তোলা হয়েছিল স্টেডিয়ামে ৯৭৪।

কাতারে জায়গা কম। তাই কাতার সরকার সিদ্ধান্ত নেয় কন্টেনার দিয়ে স্টেডিয়াম বানানো হবে। আর বিশ্বকাপের নির্দিষ্ট ম্যাচগুলো হয়ে গেলেই খুলে নেওয়া হবে কন্টেনার। শুক্রবার সেই কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপের আর কোনও ম্যাচ হবে না এই স্টেডিয়ামে।  শুধু ইতিহাসে লেখা থাকবে কন্টেনারে নির্মিত বিশ্বের একমাত্র অপসারণযোগ্য এই স্টেডিয়াম ৯৭৪-এর নাম।

৪৪ হাজার দর্শক এই স্টেডিয়ামে দেখেছিলেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা-পর্তুগালের জয় পরাজয়। মেসি, রোনাল্ড, নেইমার, লেভানদোভস্কির খেলা। মেক্সিকো ও পোল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে এই স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রাজিলের ম্যাচটিই ছিল এই মাঠের শেষ খেলা। কোরিয়ার খেলোয়াড়দের বিদায় যন্ত্রণার সাক্ষী স্টেডিয়াম ৯৭৪।

কন্টেনারগুলো নামানো শুরু হয়েছে। পারস্য উপসাগর পেরিয়ে বহু সাগর পথ পাড়ি দিয়ে জাহাজে করে সেগুলো চলে যাবে অন্য কোনও দেশে। সাথে করে নিয়ে যাবে বিশ্বকাপের গমগমে উত্তেজনার নীরব মুহূর্তগুলো।