
ডেনমার্কের হর্সেন্স শহরে শুরু হয়েছে ব্যাডমিন্টনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দলগত প্রতিযোগিতা টমাস ও উবের কাপ। এই টুর্নামেন্টকে ব্যাডমিন্টনের বিশ্বকাপ বলেই ধরা হয়। বিশ্বের সেরা ১৬টি দেশ এখানে অংশ নিয়েছে। পুরুষদের বিভাগে হয় টমাস কাপ, আর মহিলাদের বিভাগে উবের কাপ। শুক্রবার রাতে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারতের মহিলা দল মুখোমুখি হয়েছিল আয়োজক দেশ ডেনমার্কের।
আরও পড়ুন: রোহিতের প্রত্যাবর্তনে ঘুরবে ভাগ্য? প্লে-অফ স্বপ্নে ভরসা মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের
এই ম্যাচে ভারতের তারকা শাটলার পি ভি সিন্ধুকে ঘিরে হঠাৎই তৈরি হয় কৌতূহল। প্রথম সিঙ্গলস ম্যাচে ডেনমার্কের লিনে ক্রিস্টোফারসেনের বিরুদ্ধে খেলতে নামার সময় দেখা যায়, সিন্ধুর ডান চোখের ওপরে কপালে ছোট কালো টিপের মতো একটি বস্তু লাগানো রয়েছে। দর্শক থেকে শুরু করে ব্যাডমিন্টন মহলে তা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই ভাবছিলেন এটি হয়তো কোনও বিশেষ টেপ বা ফ্যাশনের অংশ। পরে অবশ্য সিন্ধু নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করেন।
আরও পড়ুন: শিরোপার আশা বাঁচাতে চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে মরিয়া জামশেদপুর এফসি
সিন্ধু জানান, এটি আসলে একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস, যার নাম ‘টেম্পল’। এখনও এই যন্ত্র সাধারণ বাজারে আসেনি। বিশেষভাবে তৈরি এই ডিভাইস খেলার সময় তাঁর শরীরের নড়াচড়া, গতি, ভারসাম্য, প্রতিক্রিয়ার সময় এবং বিভিন্ন ভুলত্রুটি পর্যবেক্ষণ করে তথ্য সংগ্রহ করে। অনুশীলন বা ম্যাচ শেষে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি নিজের খেলায় কোথায় উন্নতি প্রয়োজন, তা বুঝতে পারেন। অর্থাৎ প্রযুক্তিকে সঙ্গী করেই নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করার পথে হাঁটছেন ভারতের এই তারকা খেলোয়াড়। সিন্ধু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য এখনও শেষ হয়ে যায়নি। বয়স বাড়লেও তিনি আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য পেতে চান।
তাঁর স্বপ্ন ২০২৮ সালের অলিম্পিকে আবারও পদক জেতা। তাই নিজেকে সেরা পর্যায়ে ধরে রাখতে আগামী দু’বছর কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, এখন আর কিশোর বয়সের মতো ফিটনেস নেই, তাই শরীর ও খেলার সূক্ষ্ম দিকগুলো বুঝতে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রস্তুতি খুব জরুরি।
আরও পড়ুন: East Bengal: ওডিশা ম্যাচের আগে কী বললেন অস্কার ব্রুজো?
এই বিশেষ ডিভাইসটি তিনি পেয়েছেন তাঁর স্বামী ভেঙ্কট দত্ত সাইয়ের মাধ্যমে। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ভেঙ্কট প্রযুক্তি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন। যদিও ব্যাডমিন্টনের কৌশলগত দিক তিনি খুব ভালো বোঝেন না, তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে খেলোয়াড়ের উন্নতি সম্ভব, তা জানেন। সেই কারণেই সিন্ধুর উন্নতির জন্য তিনি এই নতুন ডিভাইসটি এনে দিয়েছেন। এদিকে ভারত-ডেনমার্ক ম্যাচ চলাকালীন একটি উদ্বেগজনক ঘটনাও ঘটে। ডাবলস ম্যাচে সিন্ধু ও তাঁর সঙ্গীর বিরুদ্ধে খেলতে নেমে আচমকাই কোর্টে লুটিয়ে পড়েন ডেনমার্কের খেলোয়াড় ক্রিশ্চেন বাখ। তাঁর হাঁটুর হাড় সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সঙ্গে সঙ্গে কোর্টে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এই সময় দ্রুত দায়িত্ব সামলান ভারতেরই এক চিকিৎসক, বাংলার নিশীথরঞ্জন চৌধুরী। তিনি কোর্টেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহত খেলোয়াড়কে দাঁড় করিয়ে দেন। স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নিশীথরঞ্জন এই বিশ্বকাপে অন-কোর্ট ডাক্তার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। বিশ্বের মাত্র তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে তিনি একজন। ফলে বিদেশের মাটিতে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের পাশাপাশি এক বাঙালি চিকিৎসকও নজর কাড়লেন নিজের দক্ষতায়।

