ইয়ামাগুচিকে হারিয়ে ইতিহাস, প্রথম ভারতীয় হিসেবে জাপান ওপেন জিতলেন পিভি সিন্ধু

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: দীর্ঘ দু’বছরের খেতাব খরা, ফর্মহীনতা এবং সমালোচকদের যাবতীয় ভ্রূকুটি উড়িয়ে দিয়ে সূর্যোদয়ের দেশে নতুন ইতিহাস লিখলেন পিভি সিন্ধু। প্রথম ভারতীয় ব্যাডমিন্টন…

pv-sindhu-beats-akane-yamaguchi-wins-japan-open-2026-title

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: দীর্ঘ দু’বছরের খেতাব খরা, ফর্মহীনতা এবং সমালোচকদের যাবতীয় ভ্রূকুটি উড়িয়ে দিয়ে সূর্যোদয়ের দেশে নতুন ইতিহাস লিখলেন পিভি সিন্ধু। প্রথম ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে জাপান ওপেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল নজির গড়লেন দু’বারের অলিম্পিক পদকজয়ী তারকা। রবিবার ফাইনালে তাঁর শিকার স্বয়ং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তথা ঘরের মেয়ে আকানে ইয়ামাগুচি। স্ট্রেট গেমে ২১-১৭, ২১-১৭ ব্যবধানে এই রাজকীয় জয় শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং ২০১৯ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সিন্ধুর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা মাইলফলক।

বিশ্বক্রমতালিকায় সিন্ধুর (১০) চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন ইয়ামাগুচি। এটি ছিল জাপানি তারকার ষষ্ঠ জাপান ওপেন ফাইনাল। গত চার বছরে ইয়ামাগুচিকে পুরো খেলা হওয়া কোনও ম্যাচে হারাতে পারেননি সিন্ধু। খাতায়-কলমে অনেকটাই পিছিয়ে থেকে কোর্টে নামলেও, আগ্রাসন, গতি এবং নিখুঁত কৌশলের সামনে কার্যত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন মহিলাদের সিঙ্গলসের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

আরও পড়ুন: নন্দনের বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিশেষ আয়োজন

ম্যাচের শুরু থেকেই ইয়ামাগুচিকে কোর্টের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড় করান সিন্ধু। একের পর এক বিষাক্ত স্ম্যাশ এবং নিখুঁত প্লেসিংয়ে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে দেন তিনি। প্রথম গেমে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর একসময় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জেরে স্কোর দাঁড়ায় ১১-১১। একটি ৩৬ শটের রুদ্ধশ্বাস র‍্যালি জিতে ইয়ামাগুচি সমতা ফেরালেও, এরপরই ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন সিন্ধু। ১৬-১২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আর পিছন ফিরে না তাকিয়ে অনায়াসেই ২১-১৭ ব্যবধানে প্রথম গেম পকেটে পোরেন ভারতীয় তারকা।

আরও পড়ুন: পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

দ্বিতীয় গেমে মরিয়া হয়ে ওঠেন ইয়ামাগুচি। টানা ছ’টি পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে ৮-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যান তিনি। এর মধ্যে ৪৪ শটের একটি ম্যারাথন র‍্যালিও ছিল। বিরতির সময় ১১-৭ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন জাপানের ঘরের মেয়ে। কিন্তু চ্যাম্পিয়নরা সহজে হার মানেন না। প্রবল চাপের মুখেও মাথা ঠান্ডা রেখে, খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে স্কোর ১৭-১৫ করেন সিন্ধু। ফের ৩৮ শটের একটি র‍্যালি জিতে সমতা ফেরান ইয়ামাগুচি। তবে স্নায়ুর চাপে আনফোর্সড এরর করে বসেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নই। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২১-১৭ ব্যবধানে গেম ও ম্যাচ নিজের নামে করে নেন সিন্ধু। চোট আঘাত আর ব্যর্থতার অন্ধকার পেরিয়ে এই প্রত্যাবর্তন ভারতীয় ক্রীড়ামহলের জন্য এক নিখুঁত রূপকথা।