ক্যানবেরা: পাকিস্তানের পুরুষ হকি দল অস্ট্রেলিয়ায় এফআইএইচ প্রো লিগের দ্বিতীয় লেগ খেলতে গিয়েছিল (Pakistan hockey)। কিন্তু সেখানে পৌঁছেই তাদের মুখোমুখি হতে হয় এক অভূতপূর্ব অপমানের। পৌঁছেই তারা জানতে পারেন চার তারা হোটেলে বুক করা রুমগুলো বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, কারণ পাকিস্তান হকি ফেডারেশন (পিএইচএফ) হোটেলের বিল মেটাতে পারেনি।
ফলে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা বিমানবন্দর থেকে নেমেই রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন। এই ঘটনা পাকিস্তানের খেলাধুলার ব্যবস্থাপনার গভীর সংকটকে আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে গত সপ্তাহে। দলটি হোবার্টে প্রো লিগের ম্যাচ খেলার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছিল। ক্যানবেরায় তাদের ট্রানজিট বা সাময়িক থাকার জন্য চার তারা হোটেলে রুম বুক করা হয়েছিল।
আরও দেখুন: POK-আকসাই অঞ্চল নিয়ে ভারতের মানচিত্রের পোস্ট সরাল আমেরিকা
পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ড (পিএসবি) এবং পিএইচএফ-এর পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের আগেই জানানো হয়েছিল যে সব বিল অগ্রিম পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু ক্যানবেরায় পৌঁছে হোটেলে গিয়ে তারা জানতে পারেন, কোনো বুকিং নেই। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিল না পাওয়ায় রিজার্ভেশন বাতিল করা হয়েছে।দলের প্রধান কোচ তাহির জামান দেশে ফিরে থাকা পিএইচএফ ও পিএসবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন।
সময়ের পার্থক্যের কারণে তাৎক্ষণিক সাড়া মেলেনি। ফলে খেলোয়াড়রা বিমানবন্দরের বাইরে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন। কয়েক ঘণ্টা পর অনেক কষ্টে কিছু রুমের ব্যবস্থা হয়, তাও দুই-তিনজন করে এক রুমে ভাগ করে থাকতে হয়। এই অবস্থায় খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ বাড়তে থাকে, কারণ তারা ইতিমধ্যেই প্রো লিগে জয়হীন অবস্থায় রয়েছে।পাকিস্তান হকি ফেডারেশনের আর্থিক সংকট নতুন কিছু নয়।
গত কয়েক বছর ধরে খেলোয়াড়দের বকেয়া ভাতা, টুর্নামেন্টের খরচ, এমনকি প্রশিক্ষণের সরঞ্জামের টাকা ঠিকমতো দেওয়া হয় না। এর আগেও মালয়েশিয়ায় এফআইএইচ নেশনস কাপে দলের খেলোয়াড়রা ১০ দিন ধরে কোনো ভাতা পাননি। অস্ট্রেলিয়া সফরের আগেও সিডনিতে লেওভারের সময় ১২ ঘণ্টা অসুবিধার মধ্যে কাটাতে হয়েছে। এবার ক্যানবেরায় হোটেল বিল না মেটানোয় পুরো ঘটনা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় খেলা হকি একসময় বিশ্বে সোনালি যুগ পার করেছে। ১৯৬০, ১৯৬৮, ১৯৮৪ সালে অলিম্পিক সোনা, চারবার বিশ্বকাপ জয় এসবই পাকিস্তান হকির গৌরব। কিন্তু গত দুই দশকে ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থা, দুর্নীতি ও আর্থিক সংকটে খেলাটি ধ্বংসের মুখে। খেলোয়াড়রা প্রায়ই বকেয়া ভাতার জন্য আন্দোলন করেন, টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়েন।
এবারের ঘটনা সেই সংকটের আরেক প্রকাশ।পিএইচএফ-এর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আসেনি। কিন্তু সূত্রের খবর, ফেডারেশনের কাছে পর্যাপ্ত তহবিল নেই। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব খেলাধুলাতেও পড়েছে। দেশের অন্যান্য খেলায়ও একই অবস্থা। ক্রিকেট ছাড়া অন্য খেলাগুলো প্রায় অবহেলিত।




















