দেশীয় ক্লাব ছেড়ে আমিরশাহির আল রামসে সই, চমক ভারতীয় তরুণ ফরোয়ার্ডের

বাবন আদক, কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে আরও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আইএসএল বা আই লিগের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে নিজেদের প্রমাণ করার যে…

Indian forward Lawmnasangzuala

বাবন আদক, কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে আরও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আইএসএল বা আই লিগের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে নিজেদের প্রমাণ করার যে সাহস একসময় বাইচুং ভুটিয়া, সুনীল ছেত্রী বা গুরপ্রীত সিং সান্ধুরা দেখিয়েছিলেন, ঠিক সেই পথেই হাঁটলেন মাত্র ২১ বছর বয়সি এক তরুণ ভারতীয় ফরোয়ার্ড। দেশের একাধিক ক্লাবের নিশ্চিত চুক্তির প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সেকেন্ড ডিভিশন লিগের ক্লাব আল রামস স্পোর্টস ক্লাবে সই করলেন প্রতিভাবান স্ট্রাইকার লালমুনসাঙ্গজুয়ালা (Lalmunsangzuala)।

ভারতীয় ফুটবলের উঠতি তারকাদের মধ্যে লালমুনসাঙ্গজুয়ালা ইতিমধ্যেই একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। এর আগে তিনি আই লিগের অন্যতম শক্তিশালী দল শ্রীনিধি ডেকানের রিজার্ভ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব সামলেছেন। আধুনিক ফুটবলে ‘ডেটা-ড্রিভেন’ স্কাউটিংয়ের যুগে এই প্রতিভাবান ফুটবলারকে সুদূর আরব থেকে চিহ্নিত করে আল রামস এসসির স্কাউটরা। তাঁর ক্ষিপ্র গতি, দুই পায়ের স্কিল এবং বক্সের ভিতর গোল চেনার সহজাত ক্ষমতা মুগ্ধ করেছে আমিরশাহির ক্লাবটির ম্যানেজমেন্টকে।

Advertisements

তবে এই দলবদলের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি লুকিয়ে রয়েছে লালমুনসাঙ্গজুয়ালার মানসিকতার মধ্যে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের একাধিক প্রথম সারির ক্লাব তাঁকে দলে টানার জন্য রীতিমতো ঝাঁপিয়েছিল। কিন্তু আরামদায়ক পরিবেশে দেশের মাটিতে খেলার বদলে, বিদেশের অচেনা লিগে গিয়ে কঠিনতর চ্যালেঞ্জ নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত তাঁর পেশাদারিত্ব এবং ফুটবলীয় জেদের প্রমাণ দেয়।

আর্থিক সুরক্ষার চেয়ে নিজের স্কিলের বিকাশকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। ভারতীয় ফুটবলের সার্বিক প্রেক্ষাপটে এই খবর নিঃসন্দেহে এক বিশাল প্রাপ্তি। দেশের তরুণ ফুটবলাররা যে ক্রমশ বিদেশি স্কাউটদের নজরে পড়ছেন, আল রামস এসসি-র এই চুক্তি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শ্রীনিধি ডেকানের প্রাক্তন অধিনায়কের এই সাহসী পদক্ষেপ আগামী দিনে আরও অনেক ভারতীয় প্রতিভাকে বিদেশের লিগে নিজেদের ফুটবল-ভাগ্য অন্বেষণ করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। এখন মরুর দেশে লালমুনসাঙ্গজুয়ালার বুট কতটা জাদু দেখাতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের।