এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ভেনিজুয়েলান সাংবাদিকের কাতর আর্তি যখন গ্ল্যামার আর ব্যস্ততার অজুহাতে একে একে এড়িয়ে যাচ্ছিলেন ইংল্যান্ডের সব তারকারা, ঠিক তখনই জুড বেলিংহ্যাম (Jude Bellingham) প্রমাণ করলেন কেন তিনি বাকিদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
ফুটবলের এই সুপারস্টারের কাছে মানবিকতা আর সহমর্মিতা নিছক কোনো শব্দ নয়, বরং তাঁর অস্থিমজ্জায় মিশে থাকা এক সহজাত প্রবৃত্তি।
মিক্সড জোনে তখন চরম ব্যস্ততা। খেলা শেষে দ্রুত ড্রেসিংরুমে ফেরার তাড়া সবার। “এবেরেচি, ডেক্লান, সাকা, হ্যারি… একটু দাঁড়ান প্লিজ!” সাংবাদিকদের শত অনুরোধও তাঁদের আটকাতে পারছিল না। কেউ ফিরেও তাকাচ্ছিলেন না সেই শারীরিক প্রতিবন্ধী সাংবাদিকের দিকে। অবজ্ঞার সেই মিছিলেই স্প্যানিশ ভাষায় ভেসে আসা “ভেনিজুয়েলার জন্য…” ডাকটি শুনে হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন বেলিংহ্যাম। বাকিদের মতো মুখ ফিরিয়ে নিতে পারলেন না রিয়াল মাদ্রিদের এই তরুণ ফুটবলার।
ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভেনিজুয়েলায় এখন শুধুই স্বজন হারানোর কান্না। অথচ এই মৃত্যুপুরীতেও বেলিংহ্যামের অগণিত ভক্ত রয়েছে। সাংবাদিকের ডাকে সাড়া দিয়ে ভিড় ঠেলে সোজা তাঁর কাছে এগিয়ে গেলেন জুড। সাংবাদিক আবেগাপ্লুত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “আজ ভেনিজুয়েলায় যে মানুষরা নিদারুণ কষ্টে আছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে আপনি কি কিছু বলবেন?”
মুহূর্তের জন্য দ্বিধা না করে, অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে স্প্যানিশ ভাষাতেই বেলিংহ্যাম বললেন, “ভেনিজুয়েলার সকল মানুষের জন্য আমার তরফ থেকে অনেক সাহস আর অফুরন্ত ভালোবাসা রইল।” আপ্লুত সাংবাদিকের ‘ধন্যবাদ’-এর উত্তরে তাঁর সাবলীল জবাব, “কোনো ব্যাপার না বন্ধু, বিদায়।”
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এই কথোপকথন বিশ্বকে এক নতুন বার্তা দিয়ে গেল। সাফল্যের চূড়ায় বসেও যে মানুষটা আর্তের যন্ত্রণায় থমকে দাঁড়াতে পারেন, তিনি শুধুই একজন প্রতিভাবান ফুটবলার নন; তিনি এক বিশাল হৃদয়ের অধিকারী। যখন গোটা পৃথিবী পাশ কাটিয়ে চলে যায়, তখন যিনি অসহায় মানুষের জন্য বুক চিতিয়ে দাঁড়ান তিনিই তো আসল মহাতারকা!





