তেহেরান: আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup)। এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ আমেরিকা। এছাড়া কানাডা, মেক্সিকো। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ। যার প্রভাব পড়েছে ফুটবলের ময়দানেও। আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে আমেরিকা, ইরানের মধ্যে নাটক অব্যাহত। এরই মাঝে এশীয় ফুটবল সংস্থার (এএফসি) কর্তা জানালেন, “ফুটবল বিশ্বকাপ খেলবে ইরান।“ তাঁর এই মন্তব্যের পরি তুঙ্গে জল্পনা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি জানিয়েছিলেন, “এই দুর্নীতিগ্রস্ত শাসক হত্যা করেছে আমাদের নেতাকে। সেটা মাথায় রেখে কোনও পরিস্থিতিতেই আমরা বিশ্বকাপে খেলতে যাব না। আমাদের শিশুরা নিরাপদ নয়। স্বাভাবিক ভাবেই এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ খেলার কথা মাথায় রাখা উচিত নয়। ওরা ইরানের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব দেখিয়েছে। গত ৮-৯ মাসে দুবার আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। তাই ওই দেশে আমাদের উপস্থিত থাকার কোনও দরকার নেই।“
সোমবার এএফসি-র সচিব দাতো উইন্ডসন জন জানান, “ইরান বিশ্বকাপে খেলবে না, এমন কথা আমরা শুনিনি। ওরা আমাদের সদস্য দেশ। আমরা চাই ওরা খেলুক। আমরা যতদূর জানি, ইরান খেলছে। এটা খুব আবেগপ্রবণ একটা সময়। অনেকে অনেক কথা বলছে। দিনের শেষে ইরান ফেডারেশনই ঠিক করবে ওরা খেলবে কি না। এখনও পর্যন্ত ইরান জানিয়েছে যে, ওরা বিশ্বকাপে যাচ্ছে।“
গত সপ্তাহে ইরানের ফুটবলারদের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরান শত্রু হলেও সেদেশের ফুটবল নয়। ইরানের ফুটবল দল যদি বিশ্বকাপে খেলতে যায়, তাহলে কোনওরকম সমস্যা হবে না। আমেরিকা তাঁদের স্বাগতই জানাবে। এই পরিস্থিতিতে আরও বেশি করে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা দরকার। আমরা চাই ইরানবাসীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বাড়ুক। ফলে সার্বিকভাবে বিশ্বকাপে কোনও সমস্যা হবে না। ইরান সহ সব দেশকেই বিশ্বকাপে স্বাগত জানাতে তৈরি আমেরিকা।“
বিশ্বকাপে গ্রুপ জি-তে ইরানের সঙ্গে রয়েছে বেলজিয়াম, ইজিপ্ট, নিউজিল্যান্ড। আগেই ইরান ফুটবল ফেডারেশনের তরফ থেকে জানানো হয়, আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নেবে তাঁরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরান ফুটবল সংস্থার এক কর্তা জানিয়েছেন, “আজ যা ঘটছে, তা আমেরিকার আক্রমণের জন্যই। তবে এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রধানরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। আমেরিকায় গিয়ে বিশ্বকাপ খেলব কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা প্রয়োজন।“



















