অলিম্পিকে লিঙ্গ বিতর্কের ইতি? নতুন নিয়মে স্পষ্ট বার্তা আইওসি’র

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC)। অলিম্পিকের মহিলা বিভাগে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—জন্মসূত্রে নারী নন এমন ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
ioc-new-gender-rule-olympics-women-category-transgender-policy

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC)। অলিম্পিকের মহিলা বিভাগে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—জন্মসূত্রে নারী নন এমন রূপান্তরকামী অ্যাথলিটরা আর মহিলা বিভাগে প্রতিযোগিতা করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন আইওসি-র প্রধান ক্রিস্টি কভেন্ট্রি, এবং জানানো হয়েছে যে এই নিয়ম কার্যকর হবে আসন্ন লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকেই। এই সিদ্ধান্তের পেছনে দীর্ঘদিনের বিতর্ক কাজ করেছে। বহু ক্রীড়াবিদ এবং সংগঠন দাবি জানিয়ে আসছিলেন যে মহিলা বিভাগ শুধুমাত্র জন্মসূত্রে নারীদের জন্যই নির্দিষ্ট থাকা উচিত, যাতে প্রতিযোগিতায় সমতা বজায় থাকে। বিশেষ করে গত প্যারিস অলিম্পিক-এ ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তোলে।

আরও পড়ুন: সিদ্ধান্তে বিতর্ক, ক্যারিয়ারে অনিশ্চয়তা! বাংলার রেফারিদের কঠিন বাস্তব

সেই অলিম্পিকে আলজেরিয়ার বক্সার ইমানে খেলিফি-র বিরুদ্ধে ইতালির অ্যাঞ্জেলা কারিনি ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার পর অভিযোগ তোলেন যে তাঁর প্রতিপক্ষ প্রকৃতপক্ষে পুরুষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একই আসরে চিনের লিন ইউটিং-কে নিয়েও লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তোলে। এই প্রেক্ষাপটে ইতিমধ্যেই ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স মহিলা বিভাগে শুধুমাত্র জন্মসূত্রে নারী অ্যাথলিটদের অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ও একাধিকবার এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, পরবর্তী অলিম্পিকের আয়োজক শহর লস অ্যাঞ্জেলেস হওয়ায় এই রাজনৈতিক এবং সামাজিক চাপকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

   

আরও পড়ুন: বাংলার ফুটবল একাডেমি! স্বপ্ন গড়ার কারখানা নাকি শুধুই ব্যবসার ফাঁদ?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মহিলা বিভাগে অংশ নিতে গেলে অ্যাথলিটদের ‘এসআরওয়াই জিন টেস্ট’ দিতে হবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোমের উপস্থিতি নির্ণয় করা হবে। কারণ, এই ক্রোমোজোম সাধারণত জন্মসূত্রে পুরুষদের শরীরেই থাকে। ফলে এই পরীক্ষার মাধ্যমে একজন অ্যাথলিট জন্মসূত্রে নারী কি না তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আইওসি জানিয়েছে, প্রতিটি মহিলা অ্যাথলিটকে অন্তত একবার এই পরীক্ষা দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে মহিলা বিভাগে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সমতা এবং ন্যায্যতা আরও সুসংহত হবে বলে মনে করছে আইওসি। তবে এই নিয়ম ভবিষ্যতে নতুন বিতর্কও তৈরি করতে পারে, কারণ লিঙ্গ পরিচয় এবং ক্রীড়া—এই দুইয়ের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা এখনও বিশ্বজুড়ে চলমান।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google