হালান্ডের জোড়া গোলে বিদায় ব্রাজিল, বিশ্বকাপে নরওয়ের দুর্দান্ত উত্থান

ফের ব্যর্থ মিশন হেক্সা। হালান্ডদের কাছে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপের (World Cup) শেষ ষোলোতেই ছিটকে গেল ব্রাজিল। সোমবার ভারতীয় সময় রাত দেড়টা নাগাদ নিউইয়র্কের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে…

haaland-double-knocks-brazil-out-of-world-cup-norway-reaches-quarterfinals

ফের ব্যর্থ মিশন হেক্সা। হালান্ডদের কাছে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপের (World Cup) শেষ ষোলোতেই ছিটকে গেল ব্রাজিল। সোমবার ভারতীয় সময় রাত দেড়টা নাগাদ নিউইয়র্কের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ সিক্সটিনের ম্যাচে নেমেছিল কার্লো আনচেলত্তির ছেলেরা। যাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল শক্তিশালী নরওয়ে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ব্যবধানে আটকে গেল সাম্বার দেশ। এদিন জোড়া গোল পেলেন আর্লিং হালান্ড। ব্যবধান কমান নেইমার জুনিয়র। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখলে এই দলের কাছে জয় পায়নি ব্রাজিল। অমীমাংসিত ফলাফল না হলে পরাজয় দিয়েই শেষ হয়েছিল উভয়ের ম্যাচ।

কাজেই লড়াই যে কঠিন ছিল তা বলাই চলে‌। তার উপর গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছিল রাফিনিয়া এবং লুকাস পাকেতার চোট। তবুও কার্লো আনচেলত্তির ওপর ভরসা ছিল সকলের। বলাবাহুল্য, ম্যাচের প্রথম থেকেই বলের দখল রেখেছিল ভাইকিংসরা। তবুও সুযোগ বুঝে আক্রমণ শানাতে ভোলেনি ভিনিসিউস জুনিয়ররা। যারফলে গোলের সুযোগ এসে গিয়েছিল ম্যাচের প্রথম দিকেই। পেনাল্টি আদায় করে নিয়েছিল ব্রাজিল। ‌ কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ফুটবলাররা। অবাক করে দিয়ে পেনাল্টি শট নিতে আসেন ব্রুনো গিমারায়েস। কিন্তু সেই শট একেবারে হাসতে হাসতে আটকে দেন ওরিয়ান নিলান্ড। যেটা নিঃসন্দেহে ধাক্কা দিয়েছিল ফুটবলারদের মনের মধ্যে।

   

তারপর প্রথমার্ধ জুড়ে একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট করে ব্রাজিল। হেড দিয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন রায়ান থেকে শুরু করে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলিরা। কিন্তু গোলের দেখা মিলেনি। যারফলে গোলশূন্য ছিল প্রথমার্ধের ফলাফল। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম থেকেই আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়েছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা। ৬০ মিনিটের মাথায় ফাঁকা বারে গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়ে ও গোল তুলতে পারেনি আনচেলত্তির ছেলেরা। তারপর প্রতি আক্রমণে উঠে এসে ৬৭ মিনিটে হালান্ড সহজ সুযোগ পেলে ও গোল পাননি। ম্যাচের বয়স যখন ৬৮ মিনিট, বদলি হিসেবে নেইমার জুনিয়রকে মাঠে নামান আনচেলত্তি।

তিনি আশায় আক্রমণের আরো ধার বাড়ে ব্রাজিলের। কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের দক্ষ হাতে আটকে যেতে হয় বারংবার। তারপর ৭৯ মিনিটের মাথায় হেড দিয়ে দুরন্ত গোল করে যান আর্লিং হালান্ড।‌ ১-০ গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। তারপর গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ভিনিসিউস জুনিয়র প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঢুকে দুরন্ত শট নিলেও বুদ্ধিমত্তার সাথে সেটিকে আটকে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক। তারপর পাল্টা আক্রমণে উঠে ৯০ মিনিটের মাথায় ডি বক্সের মধ্যে থেকে দূরপাল্লার শট নেন সেই হালান্ড। অ্যালিসন বেকার ঝাঁপ দিয়ে বল আটকানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। তারপর অতিরিক্ত ৭ মিনিটের মধ্যে ঘনঘন আক্রমণে উঠে এসেছিল দুই দল। মাঝে বিবাদে ও জড়িয়ে পড়তে দেখা গিয়েছিল দুই শিবিরের ফুটবলারদের।

তবে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় পেনাল্টি থেকে নেইমার গোল করে ব্যবধান কমালেও ম্যাচে ফেরার আর সুযোগ ছিল না। যারফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের যাত্রা এখানেই শেষ ব্রাজিলের।