কাতার বিশ্বকাপের রিপ্লে! ২-০ গোলে মরক্কো বধ করে শেষ চারে ফ্রান্স

কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নিল ফ্রান্স।

france-vs-morocco

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: ফুটবল দেবতা বোধহয় মাঝে মাঝে চিত্রনাট্য লিখতে গিয়ে বড্ড কুঁড়েমি করেন। তা না হলে বছর দুয়েক আগের কাতার বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) সেই সেমিফাইনালের স্কোরলাইনটা আজ একেবারে হুবহু ফিরে আসবে কেন? সেবারও ফ্রান্স জিতেছিল ২-০ গোলে। আজও স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে সেই একই সংখ্যা ২-০। মরক্কোর হার না মানা অদম্য ফুটবল বনাম ফরাসি শিল্পের দ্বৈরথ। এবং শেষ পর্যন্ত, সেই কিলিয়ান এমবাপে আর উসমান দেম্বেলের জোড়া ফলায় আরও একবার চুরমার হয়ে গেল আফ্রিকান দলটির প্রতিরোধের প্রাচীর।

Also Read | ইংল্যান্ডের কাছে ৯ উইকেটে হার, এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ খোয়াল ভারত

প্রথমার্ধের খেলা দেখলে অবশ্য এই পরিণতির কথা ঘুণাক্ষরেও আঁচ করা যায়নি। লড়াইটা সমানে সমানেই হচ্ছিল। ম্যাচের ২৫ মিনিটের মাথায় মরক্কান বক্সে ফাউল আদায় করে নিয়েছিলেন এমবাপে। পেনাল্টি। ফরাসি মহাতারকার সামনে তখন দলকে অনায়াসে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ। কিন্তু মরক্কোর তেকাঠি সামলানোর দায়িত্বে যে ইয়াসিন বনোউ নামের এক দুর্ভেদ্য গোলরক্ষক! ২৮ মিনিটে এমবাপের নেওয়া জোরালো স্পটকিক ডানদিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দিলেন তিনি। কাতারের স্মৃতি উসকে যেন এক লড়াকু বার্তা দিয়ে রাখল মরক্কো। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে (৪৫+২ মিনিট) লুকাস ডিগনের একটি দুরন্ত শট ক্রসবারে লেগে ফিরলে গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় দু’দল।

Also Read | বৃহস্পতিতেই ঘুরল ভাগ্যের চাকা! রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী সুখেন্দু-সুস্মিতা, প্রকাশ

কিন্তু চ্যাম্পিয়নরা তো খাদের কিনারা থেকেই ফিরে আসেন। যে এমবাপে পেনাল্টি ফস্কে প্রথমার্ধে হতাশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে তিনিই হয়ে উঠলেন ফরাসি আর্টের মূল কারিগর। ৬০ মিনিটে ডেসিরে ডুয়ের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে, বক্সের বাঁ-দিক থেকে ডান পায়ের মাপা শটে বনোউকে পরাস্ত করলেন তিনি। ১-০। এই এক গোলের ধাক্কা সামলানোর আগেই ফের ফরাসি আঘাত। ৬৬ মিনিটে এমবাপে এবার নিজে গোল করলেন না, গোলের বল সাজিয়ে দিলেন উসমান দেম্বেলেকে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দেম্বেলের নিখুঁত শট সোজা মরক্কোর জালে। ২-০। ম্যাচের ভাগ্য কার্যত ওখানেই লেখা হয়ে গেল।

Also Read |

পিছিয়ে পড়ে মরক্কান কোচ দলবদলের তাস খেলেছিলেন। সোফিয়ান আমরাবাত, সুফিয়ান রাহিমিরা মাঠে নামলেন। ৬৩ মিনিটে মরিয়া ট্যাকল করে হলুদ কার্ড দেখলেন ইসা ডিওপ। আশরাফ হাকিমি বা ব্রাহিম দিয়াজরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেন ম্যাচে ফেরার। কিন্তু মাইক মেইগনানের দস্তানা আর ফরাসি রক্ষণের শৃঙ্খলা ভাঙার মতো বারুদ তাঁদের ছিল না। ম্যাচের ৭৭ মিনিটে চোট পেয়ে এমবাপের মাঠ ছাড়াটা ফরাসি শিবিরের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ঠিকই। বদলি হিসেবে নামা জ্যাঁ-ফিলিপ মাতেতা ইনজুরি টাইমে একটি সুযোগ পেলেও তা বাঁচিয়ে দেন বনোউ। তবে তাতে ফরাসিদের জয় আটকায়নি।