বাবান আদক, কলকাতা: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) নকআউট পর্বে গোল করা যেকোনও ফুটবলারের কাছেই পরম আরাধ্য এক স্বপ্ন। কিন্তু সেই গোলের আনন্দ যদি আচমকা লাল কার্ডের বিষাদে পরিণত হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে এক চরম হতাশার মুহূর্ত তৈরি করে। ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে ঠিক এমন এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন। আর এর ফলেই তিনি ঢুকে পড়লেন জিনেদিন জিদান (২০০৬), রোনাল্ডিনহো (২০০২) এবং গারিঞ্চার (১৯৬২) মতো কিংবদন্তিদের সেই বিরল ও অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকায়, যাঁরা বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে গোল করার পর রেফারি কর্তৃক মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে এই মহারণে প্রথমার্ধেই এক দুরন্ত গোল করে আমেরিকাকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন বালোগুন। কিন্তু ৬৪ মিনিটে ঘটে যায় সেই অঘটন। বল দখলের মরিয়া লড়াইয়ে এক বসনিয়ান ডিফেন্ডারের গোড়ালিতে দুর্ঘটনাবশত পা মাড়িয়ে ফেলেন তিনি। প্রথমে মাঠের রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও, পরবর্তীতে ভিএআর (VAR)-এর হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন এবং বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
রেফারির এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠের ভেতরে ও বাইরে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মার্কিন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো এবং অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। তাঁদের জোরালো দাবি, ফাউলটি ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং এর জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখানো অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত।
তবে, বালোগুন মাঠ ছাড়ার পর দল দশ জন হয়ে গেলেও আমেরিকার দাপটে কোনও চিড় ধরেনি। জমাট রক্ষণের ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় ছিনিয়ে নেয় পচেত্তিনোর শিষ্যরা। এই জয়ের সুবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলোয় শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে মহারণের টিকিট নিশ্চিত করেছে। কিন্তু লাল কার্ডের মাসুল হিসেবে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ওই মেগা ম্যাচে দর্শকাসনে বসে থাকতে হবে বসনিয়া-বধের মূল কারিগর বালোগুনকে।


