ফিফার শাস্তির মুখে মেসির আর্জেন্টিনা! সতীর্থদের ‍‘অপরাধে’ কি কালিমালিপ্ত হচ্ছেন এলএম টেন?

বিশ্বকাপের আসর শেষ হয়ে গেলেও, লিয়োনেল মেসিদের আর্জেন্টিনার জন্য অস্বস্তি যেন কিছুতেই পিছু ছাড়তে চাইছে না। ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের যন্ত্রণার মাঝেই এবার নতুন করে…

fifa-investigates-argentina-players-coach-disciplinary-action-world-cup

বিশ্বকাপের আসর শেষ হয়ে গেলেও, লিয়োনেল মেসিদের আর্জেন্টিনার জন্য অস্বস্তি যেন কিছুতেই পিছু ছাড়তে চাইছে না। ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের যন্ত্রণার মাঝেই এবার নতুন করে প্রবল চাপে পড়ল গোটা আর্জেন্টিনা শিবির। টুর্নামেন্ট চলাকালীন জোড়া বিতর্কে জড়ানোর অভিযোগে দলের তিন প্রথম সারির ফুটবলার এবং এক সহকারী কোচের বিরুদ্ধে সরকারি ভাবে কড়া তদন্ত শুরু করল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা। দোষী সাব্যস্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাসনের মুখে পড়তে হতে পারে অভিযুক্তদের।

ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির আতসকাঁচের তলায় রয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা এবং নিকোলাস ওটামেন্ডি। তাঁদের পাশাপাশি, দলের প্রাক্তন তারকা তথা বর্তমান সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধেও জোরকদমে চলছে তদন্ত। জানা গিয়েছে, মিডফিল্ডার পারেদেসের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিনটি অভিযোগ রয়েছে। ওটামেন্ডি ও মোলিনার বিরুদ্ধে দু’টি করে এবং সহকারী কোচ আয়ালার বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ফিফা।

Advertisements

মূলত দু’টি আলাদা ঘটনার প্রেক্ষিতে এই তদন্ত। প্রথম ঘটনাটি ঘটে সেমিফাইনালে। ইংল্যান্ডকে হারানোর পর মাঠের মধ্যেই চরম বিতর্কিত একটি রাজনৈতিক ব্যানার তুলে ধরেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ওই ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ফকল্যান্ড আমাদেরই।’ ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ যে এখনও মেটেনি, তা ওই ঘটনাতেই স্পষ্ট হয়। ফুটবলের মাঠে এহেন রাজনৈতিক প্ররোচনামূলক বার্তা দেওয়া ফিফার নিয়মে কড়া অপরাধ। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ফিফায় অভিযোগ দায়ের করে ইংল্যান্ডের ফুটবল সংস্থা। ব্যানারটি ধরে রাখার ক্ষেত্রে ওটামেন্ডি ও মোলিনার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

দ্বিতীয় কলঙ্কজনক ঘটনাটি ঘটে ফাইনালে। অভিযোগ, স্পেনের বিরুদ্ধে হারের পর মেজাজ হারিয়ে চরম অখেলোয়াড়োচিত আচরণ করেন আর্জেন্টাইনরা। স্পেনের তিন তরুণ ফুটবলার এরিক গার্সিয়া, দানি অলমো এবং গাভিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পারেদেস, মোলিনা এবং আয়ালার বিরুদ্ধে। এছাড়া স্প্যানিশ তারকা রদ্রির সঙ্গে বচসা ও হাতাহাতিতে জড়ান ওটামেন্ডি।

খেলার মাঠে এমন চূড়ান্ত আগ্রাসন ও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জোড়া ফলায় এখন রীতিমতো বিদ্ধ আর্জেন্টিনা। ফিফার এই কড়া তদন্তের জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায় এবং অভিযুক্তদের কপালে শাস্তির খাঁড়া নেমে আসে কি না, এখন সেদিকেই সতর্ক নজর গোটা ফুটবল দুনিয়ার।