বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: এফবিআইয়ের (FBI) রাডারে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থা! ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে সরাসরি এফবিআই (FBI)-এর আতসকাচের তলায় চলে এল মেসিদের ফুটবল বোর্ড (এএফএ)। চরম এক অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে এখন খাদের কিনারায় ঝুলছে গোটা আর্জেন্টিনা শিবির।
এই চরম নাটকীয় চিত্রনাট্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এএফএ সভাপতি ক্লডিয়ো তাপিয়া এবং ফ্লোরিডার সংস্থা ‘ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসি’। বিদেশে এএফএ-র অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখভাল করে এই সংস্থাই। এফবিআইয়ের হাতে আসা বিস্ফোরক নথিতে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার আর্থিক ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করে আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারের এক ভয়ংকর ব্লু প্রিন্ট কষা হয়েছিল। বুয়েনস এয়র্সের দুই প্রাক্তন বিধায়ক সিটি ব্যাঙ্ক, জেপি মরগ্যান, ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকাসহ পাঁচটি শীর্ষ মার্কিন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার অন্যত্র সরিয়েছেন।
তদন্তের রিপোর্টে উঠে এসেছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য! এএফএ-র নাম ভাঙিয়ে ওই ফ্লোরিডার সংস্থাটি ২৬ কোটি ডলার বা প্রায় ২৪৮৫ কোটি টাকা মুনাফা লুটেছে, যার সামান্য অংশই বৈধ ফুটবল পরিচালনার কাজে লেগেছে। বাকি ৫ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার (প্রায় ৫৪৫ কোটি টাকা) স্রেফ হাওয়া হয়ে গিয়েছে বেনামি সুবিধাভোগীদের পকেটে।
বিপদের কালো মেঘ শুধু আমেরিকাতেই আটকে নেই। তাপিয়ার বিরুদ্ধে খোদ আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জেভিয়ার মিলেই দুর্নীতির চরম তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ, দেশে এবং বিদেশে জোড়া সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে ফুটবল কর্তারা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে যখন বুঁদ গোটা দল, তখন মাঠের বাইরে মানি লন্ডারিংয়ের এই বীভৎস কলঙ্ক চরম মানসিক চাপে ফেলেছে ফুটবলারদের।
সবুজ গালিচায় যখন লিয়োনেল মেসির ১৩ মিনিটের জাদুতে ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে রূপকথার জয় পেয়েছে দল, ঠিক তখনই মাঠের বাইরের এক প্রলয়ংকরী ঝড় তছনছ করে দিতে চাইছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। মিশরের কোচের রেফারিং নিয়ে পক্ষপাতিত্ব ও ‘ম্যাচ চুরির’ অভিযোগের রেশ মেলাতে না মেলাতেই, এবার ফুটবল কর্তাদের দুর্নীতির কঙ্কাল বেরিয়ে পড়ল এফবিআইয়ের তদন্তে।





