FIFA World Cup: হালান্ডকে থামানোর মিশনে ইংল্যান্ড, তাঁকে রুখতে কি তৈরি টুখেলের ছক?

কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের তারকা এরলিং হালান্ডকে আটকানোর কৌশল সাজাচ্ছে ইংল্যান্ড। ওডেগার্ডের পাস রুখে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করাই টুখেলের লক্ষ্য।

england-plan-to-stop-erling-haaland-FIFA World Cup-quarterfinal

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) এ বারের আসরে নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা এরলিং হালান্ড। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সেই চমক দেখিয়ে শেষ চারে ওঠার স্বপ্ন দেখছে নরওয়ে। শনিবার মায়ামিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আবারও হালান্ডের দিকেই তাকিয়ে থাকবে গোটা দেশ। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে নরওয়ে ১২টি গোল করেছে। এর মধ্যে সাতটিই হালান্ডের পা থেকে এসেছে। অর্থাৎ দলের মোট গোলের প্রায় ৬০ শতাংশই তাঁর অবদান। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি গড়ে প্রতি ৭১ মিনিটে একটি করে গোল করছেন। এই পরিসংখ্যানই বোঝায়, তাঁকে থামানো কতটা কঠিন। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে হালান্ড নিজের শক্তি ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। শক্তিশালী ডিফেন্ডারদের সঙ্গে লড়াই করে তিনি গোল করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে তাঁকে শুধুমাত্র শারীরিক শক্তি দিয়ে আটকে রাখা যায় না। ভালো পাস পেলে তিনি বিশ্বের সেরা রক্ষণভাগকেও বিপদে ফেলতে পারেন।

Read More: এশিয়ার মঞ্চে কঠিন পরীক্ষার মুখে ইস্টবেঙ্গল! ১২ অগাস্ট প্রতিপক্ষ কুয়েতের ক্লাব

হালান্ডের সবচেয়ে বড় সহায়ক অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। মাঝমাঠ থেকে তাঁর নিখুঁত পাসই বারবার হালান্ডকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেয়। তাই ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনের প্রধান কাজ হবে ওডেগার্ডের পাসের রাস্তা বন্ধ করা। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ওডেগার্ডই সবচেয়ে বেশি, মোট ১২টি পাস দিয়েছেন হালান্ডকে। টুর্নামেন্টে তাঁর তিনটি অ্যাসিস্টও রয়েছে। উইঙ্গার আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপও হালান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি ইতিমধ্যেই হালান্ডের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি করেছেন।

ফলে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলকে এমন কৌশল নিতে হবে যাতে ওডেগার্ড ও শেলদেরুপ, দু’জনকেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য দুই সেন্টার-ব্যাক এজরি কনসা ও মার্ক গেহির সামনে বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কনসা হালান্ডকে তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে সামলেছেন। অন্যদিকে গেহি তাঁর বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে দুটি গোল হজম করেছেন। তবে ম্যানচেস্টার সিটিতে একসঙ্গে খেলার সুবাদে জন স্টোনস ও নিকো ও’রাইলির মতো ফুটবলাররা হালান্ডের খেলার ধরন সম্পর্কে ভালোই জানেন।

Read More: জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,

গেহি নিজেও বলেছেন যে হালান্ডের বিপক্ষে খেলাটা হবে উপভোগ্য, যদিও তা সহজ হবে না। পুরো ম্যাচ জুড়ে হালান্ডকে আটকানো হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু যদি ইংল্যান্ড তাঁর কাছে বল পৌঁছনোর পথ বন্ধ করতে পারে এবং তাঁকে কম সুযোগ দেয়, তাহলে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। নরওয়ের আরেকটি বড় অস্ত্র আলেকজান্ডার সরলোথ। মূলত স্ট্রাইকার হলেও দেশের হয়ে তিনি ডান দিক থেকে খেলেন। তাঁর শারীরিক শক্তি ও গোল করার ক্ষমতা ইংল্যান্ডের রক্ষণকে বাড়তি চাপে ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় লড়াই হবে হালান্ডকে ঘিরেই। তাঁকে পুরোপুরি থামানো কঠিন, কিন্তু তাঁর রসদ জোগানো বন্ধ করতে পারলে ইংল্যান্ডের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।