বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: ফুটবল এখন আর নিছক কোনও খেলা নেই, এটি এখন ফিফার লেখা এক সুনিপুণ মেগা সিরিয়াল। আর সেই সিরিয়ালের একমাত্র আদরের সন্তান লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi)! চিত্রনাট্য এমনভাবেই সাজানো যে, নায়ক কিছুতেই হারতে পারবে না, সে তার জন্য প্রতিপক্ষকে গলা টিপে মারতে হলেও সই। ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও মিশর যে ম্যাচটা হেরে গেল, সেটা আর্জেন্টিনার কোনও ‘মহামানবীয়’ প্রত্যাবর্তন নয়, বরং ফিফার নির্লজ্জ চুরির এক চূড়ান্ত নিদর্শন।
ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা মিশরের কোচ হোসাম হাসান সাংবাদিক সম্মেলনে এসে যে বিস্ফোরক সত্যটা তুলে ধরেছেন, তা আসলে ফিফারই নগ্ন রূপ। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “ম্যাচটা চুরি করা হয়েছে। ওরা চায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকুক, মেসি আরও কিছুক্ষণ খেলুক।”
হাসানের এই অভিযোগ অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। যখনই দেখা গেল মেসিদের বিশ্বকাপ বিদায় প্রায় নিশ্চিত, তখনই মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠল ফিফার ‘অদৃশ্য শক্তি’। বক্সে ম্যাক অ্যালিস্টার স্পষ্ট ফাউল করলেন হামদি ফাতিকে। গোটা স্টেডিয়াম দেখল পিছন থেকে কীভাবে জার্সি টেনে ধরা হয়েছে, কিন্তু রেফারির চোখে তখন ‘মেসি-বন্দনার’ ঠুলি! আর ভার (VAR)? সে তো আর্জেন্টিনার বিপদে পড়লে তবেই জেগে ওঠে। তাই নির্লজ্জভাবে পেনাল্টি বাতিল হলো, আবার অদ্ভুতভাবে মিশরের দ্বিতীয় গোলও কেড়ে নেওয়া হলো অদ্ভুতভাবে।
ফেয়ার প্লের বড় বড় বুলি আওড়ানো ফিফা আসলে প্রমাণ করে দিল, ট্যাকটিক্স আর প্রতিভা দিয়ে সব ম্যাচ জেতা যায় না, যদি না রেফারি আপনার পকেটে থাকে। এনজ়ো ফের্নান্দেজ়ের তৃতীয় গোলটা হয়তো স্কোরবোর্ডে আর্জেন্টিনার নাম উজ্জ্বল করবে, কিন্তু তার পেছনের কালো সত্যটা হলো এই জয় মিশরের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কাতার বিশ্বকাপ থেকেই এই ‘মেসি-প্রজেক্ট’ সবার চোখের সামনে চলছে। ফিফা চায় তাদের পোস্টার বয়কে যে কোনও মূল্যে টিকিয়ে রাখতে। মিশরের কান্না আর হাসানের এই ক্ষোভ হয়তো কয়েকদিন পর সবাই ভুলে যাবে, কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে এই ম্যাচটা লেখা থাকবে এক চরম কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে। যেখানে ফুটবল হেরেছে, আর জিতেছে ফিফার নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব!





