সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: গত ২০২৫-২০২৬ মরসুমে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল ক্লাব পার্সেবায়া সুরাবায়া থেকে মহম্মদ রশিদকে দলে টেনেছিল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) ক্লাব। তাঁর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে মাঝমাঠে এক আলাদাই শক্তির সঞ্চার করে। প্রতিপক্ষের আক্রমণকে ভোঁতা করার পাশাপাশি দলের আপফ্রন্টকে বাড়তি শক্তিশালী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছেন প্যালেস্টাইনের এই ফুটবলার।
কাজেই সিজনের প্রথম থেকেই সাফল্য পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। তবে ধাক্কা খেতে হচ্ছিল বারংবার। ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে পরাজিত করার পর সেমিফাইনালে বাংলার আরেক শক্তিশালী ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলতে হয়েছিল ময়দানের এই প্রধানকে।
সেখানে পরাজিত হয়ে ছিটকে যেতে হয়েছিল টুর্নামেন্ট থেকে। তারপর ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড জয়ের পরিকল্পনা থাকলেও সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পড়শী ক্লাব। টাইব্রেকারে পরাজিত হয়ে হাতছাড়া হয়েছিল সেই শিল্ড। তারপর দেশের সর্বভারতীয় কাপ টুর্নামেন্ট তথা সুপার কাপ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল সমর্থকরা। দাপুটে ফুটবলের মধ্য দিয়ে দল ফাইনালে উঠলেও ফের বাঁধ সাধে টাইব্রেকার। তারপর সাডেন ডেথে এফসি গোয়ার কাছে পরাজিত হয়ে হাতছাড়া হয়েছিল সেই কাপ।
আরও পড়ুন: ৩৯-এও বিধ্বংসী মেসি! বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক জাদুকরের
এমনকি সেই টাইব্রেকারে শট মিস করে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়তেও দেখা গিয়েছিল মহম্মদ রশিদকে। সেই আফশোষ ঘুচিয়ে শেষ মরসুমে দলকে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ চ্যাম্পিয়ন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থেকেছে রশিদের। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে যথেষ্ট প্রভাবশালী ফুটবল খেলার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে বারাণসীর শক্তিশালী ফুটবল ক্লাব তথা ইন্টার কাশীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এই ট্রফি দলকে জেতানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল প্যালেস্টাইনের এই তারকার। তার গোলেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল লাল-হলুদের খেতাব জয়।
এমন অভূতপূর্ব পারফরম্যান্সের দরুণ তাঁকে নিয়ে যে পরিকল্পনা থাকবে ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজমেন্টের তা জানা ছিল সকলের, তবে গত মে মাসের শেষেই তাঁর সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে গিয়েছিল এই ক্লাবের। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নয়া সিজনের কথা মাথায় রেখে তার সঙ্গে নয়া চুক্তি সম্পন্ন করছে গতবারের বিজয়ীরা। অর্থাৎ ইস্টবেঙ্গল ক্লাবেই থাকতে চলেছেন রশিদ।



