First Football World Cup: ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে খুঁটিনাটি কিছু তথ্য!

41
1st-world-cup

ফিফার প্রথম বৈঠকটি হয় ১৯০৪ সালে। প্যারিসে বসে ফিফার কর্মকর্তারা খেলার রাজা ফুটবলের বিশ্ব প্রতিযোগিতার আয়োজন করার কথা ভাবেন।এর পর ১৯২৮ সালে আমস্টারডামে অলিম্পিক চলাকালে ফুটবল উপলক্ষে বিশ্বকে এক করতে চার বছর পর পর বিশ্বকাপ আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।১৯২৯ সালে সিদ্ধান্ত হয় প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল (First Football World Cup) অনুষ্ঠিত হবে ১৯৩০ সালে।

সেই সময় কোন দেশটি এ ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমি হতে প্রস্তুত সে প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিল চার দেশ। যথা- ইতালি, হল্যান্ড, স্পেন ও সুইডেন। এই চার দেশ প্রথম বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হতে আগ্রহ দেখিয়েছিল।কিন্তু ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালে পর পর দুবার অলিম্পিক ফুটবল আসরে সোনাজয়ী হওয়ার কারণে উরুগুয়ে এই দুর্লভ সম্মান পায়। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক হয় নীল জার্সির দেশ উরুগুয়ে।    

প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৩ দেশ। ইউরোপের মাত্র চারটি দেশ, উত্তর আমেরিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো এবং সাতটি দেশ অংশ নেয় লাতিন আমেরিকা থেকে।এ নিয়েই প্রথম বিশ্বকাপের মহারণ। সেই সময় দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে উরুগুয়ের মন্টিভিও যেতে পারেনি অস্ট্রিয়া, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, স্পেন, সুইজারল্যান্ডের মতো দেশ। হয়তো আয়োজন ইউরোপের কোথাও হলে তারাও আসতে পারত প্রথম বিশ্বকাপে।১৯৩০ সালের ১৩ জুলাই শুরু হয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ ফ্রান্স বনাম মেক্সিকো। আর সব ম্যাচ থেকে এ ম্যাচ অবশ্যই অনন্য, সম্মানীয় ও ঐতিহাসিক। সে ম্যাচে ফ্রান্স মেক্সিকোকে ৪-১ গোলে পরাজিত করে। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ৬ গোল জড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জালে। ম্যাচ শেষ হয় ৬-১ গোলে। একই ব্যবধানে অপর সেমিফাইনালে উরুগুয়ে হারায় যুগোস্লোভাকিয়াকে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ফাইনালে মুখোমুখি হয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে। চিরস্মরণীয় এ ফাইনালে দেখা দেয় বিচিত্র এক সমস্যা। দুদলই দাবি করে নিজ নিজ দেশের বল দিয়ে খেলতে দিতে হবে।ফিফা এই অদ্ভুত এ সমস্যার সমাধান করে দেয় এভাবে যে, প্রথমার্ধে ও দ্বিতীয়ার্ধে দুই দেশ তাদের নিজ নিজ ভিন্ন বল দিয়ে খেলবে।দুই দেশের বল মাঠে গড়ালেও ইতিহাস গড়া প্রথম ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে উরুগুয়ে প্রথম জুলেরিমে ট্রফি (বিশ্বকাপের পূর্ব নাম) জয়লাভ করে সৃষ্টি করে আরেক ইতিহাস।বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে উদ্বেল উরুগুয়েতে ফাইনালের পর দিন জাতীয় উৎসব ও ছুটি ঘোষণা করা হয়।এ আয়োজনে আর্জেন্টাইন তারকা স্ট্রাইকার স্টাবিল ৪ ম্যাচে ৮ গোল করে ইতিহাসের প্রথম সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সম্মান অর্জন করেন।

(সব খবর, সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে পান। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram এবং Facebook পেজ)