মুখে শ্রদ্ধার বার্তা! ইগোর লড়াইতে শেষ হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট ?

নয়াদিল্লি: আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের (Bangladesh cricket)সামনে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা এখন আর শুধু খেলার মাঠের ব্যাপার নয় এটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইগো, রাজনীতি আর আন্তর্জাতিক ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bangladesh-cricket-icc-rejection-t20-world-cup

নয়াদিল্লি: আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের (Bangladesh cricket)সামনে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা এখন আর শুধু খেলার মাঠের ব্যাপার নয় এটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইগো, রাজনীতি আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়মকানুনের এক জটিল লড়াই। শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ভারতে খেলতে না চাওয়ায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, আর তার জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এই ঘটনার পুরো চিত্রটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে মুখে শ্রদ্ধা আর সম্মানের কথা বলা হলেও, ভেতরে ভেতরে একটা গভীর হতাশা আর অসহায়ত্বের ছায়া পড়েছে।আমজাদ হোসেন বলেছেন, “আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আইসিসি বোর্ডের প্রতি আমরা পুরোপুরি শ্রদ্ধাশীল।

   

দেশে চালু হবে কুরআনের শাসন! জামাতের হুঙ্কারে বাড়ছে উদ্বেগ

বোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্ত ছিল যে ম্যাচ স্থানান্তর করা যাবে না। তারপরও আমরা নিজেদের মতো করে অনুরোধ জানিয়েছি। যেহেতু তারা করবে না বা চায় না, তাই আর কিছু করার নেই।” এই কথাগুলো শুনলে মনে হয়, বিসিবি আসলে হাত তুলে দিয়েছে। কিন্তু এর পেছনে যে গল্পটা রয়েছে, তা অনেক জটিল।টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বাংলাদেশ দলের কয়েকটি ম্যাচ ভারতে নির্ধারিত ছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে ছাড়ার নির্দেশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবিকে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। তারা আইসিসির কাছে আবেদন জানায় যে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করা হোক। কিন্তু আইসিসি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অটল ম্যাচ ভারতে খেলতেই হবে।

ফলে বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যায়।এই ঘটনা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটা বড় ধাক্কা। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে না খেলা মানে শুধু খেলোয়াড়দের সুযোগ হারানো নয়, দলের র‌্যাঙ্কিং, স্পনসরশিপ, ফ্যানদের উৎসাহ সবকিছুতেই প্রভাব পড়বে। অনেকে বলছেন, এটা শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, এর মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও মিশে আছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনা, খেলোয়াড়দের নিয়ে বিভিন্ন ইস্যু এসব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। আইসিসির সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ একপেশে বলছেন, আবার কেউ বলছেন, আইসিসি তো হোস্ট দেশের সিদ্ধান্ত মেনে চলতেই পারে।আমজাদ হোসেনের বক্তব্যে যে ‘শ্রদ্ধা’ ও ‘সম্মান’-এর কথা বলা হয়েছে, তা অনেকের কাছে মনে হচ্ছে কূটনৈতিক ভাষা।

ভেতরে ভেতরে হয়তো ক্ষোভ রয়েছে, কিন্তু খোলাখুলি বলা যাচ্ছে না। কারণ আইসিসির সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করলে ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা হতে পারে। বিসিবি জানিয়েছে, তারা আর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়বে না। দরজা বন্ধ করে দিয়েছে।এই ঘটনা থেকে একটা বড় প্রশ্ন উঠে আসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট কি এভাবে ইগোর লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে নিজের পায়ে কুঠার মারছে?

খেলোয়াড়রা যখন বিশ্বমঞ্চে লড়াই করার সুযোগ হারাচ্ছে, তখন এই রাজনৈতিক-প্রশাসনিক টানাপোড়েন কি দলের উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না? ফ্যানরা হতাশ, অনেকে বলছেন, “খেলাটা তো খেলাই, এতে এত টেনশন কেন?” কিন্তু বাস্তবতা হলো, আধুনিক ক্রিকেটে খেলা আর রাজনীতি আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google