সেই জানুয়ারি! এবার সন্দেশখালির ন্যাজাট! আক্রান্ত পুলিশ

সন্দেশখালি: তারিখটা ছিল ৫ জানুয়ারি, ২০২৪। রেশন দুর্নীতি মামলার তল্লাশিতে গিয়ে সন্দেশখালির সরবেড়িয়ায় নজিরবিহীন হামলার মুখে পড়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির (ED) আধিকারিকরা। ঠিক দু’বছর পর, ২০২৬-এর ৩ ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Sandeshkhali police attack

সন্দেশখালি: তারিখটা ছিল ৫ জানুয়ারি, ২০২৪। রেশন দুর্নীতি মামলার তল্লাশিতে গিয়ে সন্দেশখালির সরবেড়িয়ায় নজিরবিহীন হামলার মুখে পড়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির (ED) আধিকারিকরা। ঠিক দু’বছর পর, ২০২৬-এর ৩ জানুয়ারি সেই একই ভয়াবহ স্মৃতি ফিরল উত্তর ২৪ পরগনার এই জনপদে। এবার লক্ষ্য কেন্দ্রীয় সংস্থা নয়, খোদ রাজ্যের পুলিশ। অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে গ্রামবাসীদের হাতে আক্রান্ত হতে হলো পুলিশ কর্মীদের, ভাঙচুর চালানো হলো পুলিশের গাড়িতে।

ঘটনার সূত্রপাত

পুলিশ সূত্রে খবর, সন্দেশখালির ন্যাজাট থানার অন্তর্গত বয়ারমারি এলাকায় জমি সংক্রান্ত একটি বিবাদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অভিযুক্তকে ধরতে ঘটনাস্থলে যায় রাজবাড়ি আউটপোস্টের পুলিশ বাহিনী। হুলোপাড়া এলাকায় মুসা নামে এক অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গেলেই পুলিশের ওপর চড়াও হয় একদল গ্রামবাসী।

   

রণক্ষেত্র বয়ারমারি: আক্রান্ত পুলিশ Sandeshkhali police attack

অভিযোগ, পুলিশ গ্রামে ঢোকামাত্রই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হামলা শুরু হয়। পুলিশকর্মীদের মারধর করার পাশাপাশি ইডি আধিকারিকদের স্টাইলে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় এক অফিসারসহ তিন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে প্রাণ বাঁচাতে পিছু হটতে হয় পুলিশকে।

ব্যাপক ধরপাকড় ও উত্তেজনা

এই ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। র্যাফ ও অতিরিক্ত ফোর্স নামিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানকেও। গোটা বয়ারমারি এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ ও কটাক্ষ

এই ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা অরিন্দম আচার্য। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে পুলিশকর্মীরা আইন রক্ষা করবেন, তাঁরাই যদি এভাবে হেনস্থার শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে মানুষ ভোট পর্যন্ত দিতে পারবে না।”

অন্যদিকে, এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারকে বিঁধেছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। তিনি বলেন, “সন্দেশখালিতে শাহজাহান নেই তো কী হয়েছে, সবাই তার বংশধর। সংবিধান বা আইনকে কেউ তোয়াক্কা করছে না। জেল থেকেই শাহজাহান পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।”

দুই বছর আগে ইডি-র ওপর হামলার পর তোলপাড় হয়েছিল জাতীয় রাজনীতি। এবার সেই একই কায়দায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেশখালির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।

West Bengal: Sandeshkhali turns into a battlefield again as police officers are attacked and vehicles vandalized in Boyarmari. Exactly two years after the ED attack, nine people, including local leaders, have been detained. Stay updated on the latest tension.

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google