নয়াদিল্লি: দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির (ED Manpower)জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রায় ১৫ বছর পর সংস্থার কর্মী কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের অনুমোদন দিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক ইডির জন্য ১,২০০-রও বেশি অতিরিক্ত পদে নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে সংস্থার মোট জনবল ৬০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে চলেছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ইডির মোট কর্মী সংখ্যা ২,০২৯। নতুন অনুমোদনের পর তা বেড়ে দাঁড়াবে ৩,২৫৬-এ। অর্থাৎ এক ধাক্কায় ১,২২৭টি নতুন পদ তৈরি করা হয়েছে। তদন্তকারী মহলের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বেড়ে চলা আর্থিক দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং, আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ এবং সাইবার জালিয়াতির মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও দেখুনঃ ১ মাসে সীমান্তের ১৪২.৭৯ একর জমি BSF র হাতে তুলে দিয়ে নজির বাংলার ডবল ইঞ্জিনের
ইডির যে ছয়টি মূল ক্যাডার রয়েছে, তার মধ্যেই এই নতুন পদগুলি বণ্টন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে এক্সিকিউটিভ, লিগ্যাল এবং অ্যাডজুডিকেশন শাখা। এই বিভাগগুলিই মূলত সংস্থার তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে।সবচেয়ে বেশি নতুন পদ তৈরি হয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্ট এনফোর্সমেন্ট অফিসার পদে। এই পদে ৮০৩ জন অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এনফোর্সমেন্ট অফিসার পদে ৬০৬ এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অফ এনফোর্সমেন্ট পদে ৫৩১টি নতুন পদ তৈরি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে ইডির কাজের পরিধি কয়েকগুণ বেড়েছে। আগে যেখানে মূলত সীমিত কিছু আর্থিক অপরাধ নিয়ে তদন্ত চলত, এখন আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা, বিদেশি সম্পত্তি লেনদেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতি এবং বড় কর্পোরেট দুর্নীতির মতো জটিল মামলাও সামলাতে হচ্ছে সংস্থাকে। ফলে বর্তমান কর্মীসংখ্যা দিয়ে চাপ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছিল।
ইডির শেষ ক্যাডার পুনর্গঠন হয়েছিল ২০১১ সালে। তারপর দীর্ঘ ১৫ বছর কোনও বড় কাঠামোগত পরিবর্তন হয়নি। এই সময়ে দেশের আর্থিক অপরাধের ধরন যেমন বদলেছে, তেমনই বেড়েছে তদন্তের পরিধি এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও। ফলে বহুদিন ধরেই সংস্থার তরফে জনবল বাড়ানোর দাবি জানানো হচ্ছিল।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, শুধু কর্মী সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, আধুনিক প্রযুক্তি, ফরেনসিক দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ও আরও জোরদার করতে হবে। রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, ইডির ক্ষমতা এবং পরিধি ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে কেন্দ্রের যুক্তি, আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর লড়াইয়ের জন্য শক্তিশালী তদন্তকারী সংস্থা অত্যন্ত জরুরি।
তদন্তকারী মহলের মতে, নতুন নিয়োগের ফলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ইডির তদন্তের গতি বাড়বে। বিশেষ করে যেসব মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মীস্বল্পতার কারণে তদন্তে দেরি হচ্ছিল, সেগুলিতে গতি আসতে পারে। একই সঙ্গে নতুন আঞ্চলিক অফিস ও বিশেষ তদন্ত ইউনিট তৈরির সম্ভাবনাও বাড়ছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পদ বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। এখন নজর থাকবে, এই নতুন জনবল কত দ্রুত নিয়োগ করা হয় এবং বাস্তবে ইডির তদন্ত ব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন আনে।




















