কলকাতা: বাংলার মাটিতে শক্তি বাড়ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। (RSS growth)মূলস্রোতের রাজনৈতিক দলের ভিড়ে এই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনকে কেউ ধর্তব্যের মধ্যেই আনে না। কিন্তু সবার অলক্ষেই বাংলায় নিজেদের দলভারি করেছে আরএসএস। গত ১৪ বছরে এই সংগঠনের সদস্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০০। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) গত কয়েক বছরে রাজ্যে তার সাংগঠনিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মধ্যবঙ্গ প্রান্তে একাই ৫০০-র বেশি নতুন শাখা (শাখা) যুক্ত হয়েছে।
গ্রামের মাঠে, পাড়ায় পাড়ায় প্রতিদিন সকালে শাখা চলছে, যুবক-যুবতীরা শারীরিক অনুশীলন, সাংস্কৃতিক আলোচনা ও সেবামূলক কাজে যুক্ত হচ্ছেন। আরএসএসের এই গ্রাসরুট আউটরিচ শুধু সংখ্যায় নয়, হিন্দু সমাজের মধ্যে ঐক্য ও সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে সংঘের নেতারা জানিয়েছেন।সূত্র অনুসারে, গত ১৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএস-এর শাখার সংখ্যা প্রায় ৫৩০ থেকে বেড়ে ২,৫০০-এরও বেশি হয়েছে।
২০১১ সালে যেখানে পুরো রাজ্যে আরএসএস-এর ইউনিট ছিল মাত্র ৮৩০-এর কাছাকাছি, সেখানে ২০২৫ সালে তা ৪,৫৪০-এ পৌঁছেছে। মধ্যবঙ্গ প্রান্তে ২০২৩ সালের মার্চে ১,৩২০ ইউনিট থেকে ২০২৫ সালে তা ১,৮২৩-এ উঠেছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গেও শাখা, মিলন ও মণ্ডলীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই বৃদ্ধি শুধু সংগঠনিক নয়, গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় সাধারণ হিন্দু পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলার ফল।
আরএসএস-এর কর্মীরা বলছেন, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করেন না। তাঁদের লক্ষ্য হলো চরিত্র গঠন, শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি এবং সমাজসেবা। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই বিস্তার বিজেপির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করছে। গ্রামের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনা, দুর্গাপূজা, রামনবমীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সাহায্য এসবের মাধ্যমে আরএসএস হিন্দু সমাজের মধ্যে এক ধরনের ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও মধ্যবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই কাজ আরও জোরদার হয়েছে।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সাংগঠনিক শক্তি বিজেপির জন্য বড় সুবিধা হতে পারে বলে দলের অন্দরে আলোচনা চলছে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৮টি আসন পাওয়ার পিছনে আরএসএস-এর গ্রাউন্ডওয়ার্কের ভূমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করেন। যদিও ২০২১-এর বিধানসভায় সাফল্য সীমিত ছিল, কিন্তু গত কয়েক বছরের অবিরাম শাখা সম্প্রসারণ এবারের নির্বাচনে দলকে আরও সংগঠিত করে তুলতে পারে।
আরএসএস নেতারা বলছেন, তাঁরা প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ইউনিট গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছেন। ২০২৬-এর আগে ৮,০০০ ইউনিটের টার্গেট নিয়ে কাজ চলছে। ২০২৬-এর নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, আরএসএস-এর এই সাংগঠনিক শক্তি রাজ্যের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সকলে। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে আরএসএস এখন শুধু একটি সংগঠন নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের একটি মাধ্যম হয়ে উঠছে। বিজেপির নেতারা মনে করেন, এই গ্রাসরুট কাজ তাঁদের হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে আরও শক্তিশালী করবে।




















