ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ, প্রাক্তন জলসম্পদমন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের (Ramesh Chandra Sen)পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন আর নেই। শনিবার সকালে দিনাজপুর জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে দ্রুত দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন রমেশ চন্দ্র সেন। কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা জানান, তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার মো. ফরহাদ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরও দেখুন: আত্মসমর্পনে গিয়েও ফিরতে হল আখতার আলীকে
গত ১৬ আগস্ট ঠাকুরগাঁও থানার পুলিশ তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে পাঠায়। পরদিন, ১৭ আগস্ট, তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তিনি তখন হত্যাসহ তিনটি মামলায় আটক ছিলেন।
রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি এলাকার উন্নয়নে নানা উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর মৃত্যুতে সমর্থক ও সহকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে একদিকে দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার অবসানে শোক, অন্যদিকে আইনি জটিলতার মধ্যে শেষ জীবনের পরিণতি নিয়ে নানা আলোচনা।
১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের কশালগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রমেশ চন্দ্র সেন। তাঁর বাবা ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন ও মা বালাশ্বরী সেন। শৈশব কাটে গ্রামেই, পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজে। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি আকর্ষণ ছিল তার।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে দলীয় সংগঠনে নিজের অবস্থান মজবুত করেন এবং একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মোট পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হওয়া রমেশ চন্দ্র সেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তার রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় অধ্যায় ছিল জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন। সেই সময় বিভিন্ন নদী খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে তার ভূমিকার কথা দলীয় নেতারা প্রায়ই উল্লেখ করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি আবারও ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
তবে জীবনের শেষ পর্বে আইনি জটিলতার মধ্যে পড়তে হয় তাকে। একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকতে হয়, যা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায়কে বিতর্কিত করে তোলে। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ সময় জনসেবার সঙ্গে যুক্ত একজন প্রবীণ রাজনীতিকের শেষ পরিণতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আবার অনেকে মনে করছেন, আইনের শাসনের পথেই বিষয়গুলির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত ছিল।




















