কলকাতা: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় (Akhtar Ali)আজ আরও একটা নাটকীয় মোড়। যিনি একসময় এই দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করে ‘হুইসলব্লোয়ার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন, সেই প্রাক্তন ডেপুটি সুপার (নন-মেডিক্যাল) আখতার আলি আজ আলিপুরের সিবিআই বিশেষ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়েও শেষপর্যন্ত তা করতে পারলেন না।
আদালত থেকে ফিরে এলেন তিনি, প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ রেখেই।ঘটনার সূত্রপাত অনেক দিনের। ২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর হাসপাতালে এক তরুণী পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডাক্তারের ভয়াবহ ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা সারা দেশকে নাড়া দিয়েছিল। তারপর থেকেই হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডার কারচুপি, যন্ত্রপাতি কেনায় দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
এর মধ্যে আখতার আলি নামের ওই কর্মকর্তা সামনে এসে দাবি করেন, প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের আমলে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়, যা পরে সুপ্রিম কোর্টও বহাল রাখে। সেই তদন্তে সন্দীপ ঘোষ গ্রেফতার হন, একাধিক চার্জশিট জমা পড়ে।কিন্তু গত ডিসেম্বরে সিবিআই অতিরিক্ত চার্জশিটে চমক দিয়ে আখতার আলির নামও অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।
অভিযোগ, তিনি নিজেও হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনা প্রক্রিয়ায় অনিয়মে জড়িত ছিলেন। তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২০২০-২০২২ সালের মধ্যে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে, বিদেশ ভ্রমণের খরচও সরবরাহকারী কোম্পানি থেকে এসেছে বলে দাবি। এরপর থেকেই আখতার আলির অবস্থান বদলে যায়। তিনি আদালতে হাজিরা এড়াতে থাকেন।
অসুস্থতার অজুহাতে হাসপাতালে ভর্তি থাকার কথা বলেন। হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদনও করেন, কিন্তু তা খারিজ হয়।গত শুক্রবার আলিপুর সিবিআই বিশেষ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে হাজিরা এড়াচ্ছেন, যা বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।
সন্দীপ ঘোষের আইনজীবী তো আরও কড়া ভাষায় বলেন, “আখতার আলি ১২ বছর ধরে দুর্নীতি করে এসেছেন, সুবিধা না হওয়ায় পরে অভিযোগকারী সেজেছেন।” আজ শনিবার আখতার আলি আদালতে পৌঁছান আত্মসমর্পণ করতে। কিন্তু তাঁর আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি।
তিনি বিচারকের কাছে আত্মসমর্পণের আবেদন জানাতে চেয়েছিলেন বলে জানা গেছে, কিন্তু আইনি প্রতিনিধিত্বের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। ফলে আদালত থেকে ফিরে আসতে হয় তাঁকে। এই ঘটনায় মামলার তদন্ত আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরোয়ানা বলবৎ রয়েছে, পুলিশকে তাঁকে গ্রেফতার করে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




















