বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। (Raju Bista)দুপুরে মমতা বন্দোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন। তিনি বলেন নির্বাচন কমিশন যেভাবে বিজেপির দালালি করছে তা অসাংবিধানিক। রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে যে রদবদল করছে নির্বাচন কমিশন তা রাষ্ট্রপতি শাসনের সামিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এই ইস্যুতেই শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে নিশানা করে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল বিতর্কের ঝড় উঠেছে। রাজু বিস্তা সরাসরি অভিযোগ করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বলেন কোনও কিছু অসাংবিধানিক, তাহলে আমি বলব তিনি নিজেই সংবিধানকে উপহাস করেন, সেটাই অসাংবিধানিক।” তাঁর মতে, রাজ্যের প্রশাসন এবং পুলিশ কার্যত শাসক দলের ‘এক্সটেন্ডেড ক্যাডার’ হিসেবে কাজ করছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। আর নির্বাচন কমিশন এর বিরোধিতা করে রদবদল ঘটাচ্ছে প্রশাসনিক স্তরে।
আরও দেখুনঃ হিমঘরে বাইরের আলুকে অগ্রাধিকার, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন কৃষকরা
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা মানেই সংবিধানকে অসম্মান করা। যদিও তিনি কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করেননি, তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজু বিস্তার দাবি, রাজ্যে আইনের শাসনের অভাব রয়েছে এবং শাসক দল নিজেদের মতো করে প্রশাসন পরিচালনা করছে। রাজু আরও বলেন মমতা বাংলাকে বাংলাদেশ বানাতে চান।
রাজু বিস্তা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব এবং বিজেপি সেই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, বিজেপি ভোটের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা ছড়াতে চাইছে এবং বিভাজনের রাজনীতি করছে। তাদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্যই করা হচ্ছে।
শিলিগুড়ি এবং উত্তরবঙ্গের অন্যান্য এলাকায় ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রচার জোরদার হয়েছে। বিজেপি এবং তৃণমূল দুই পক্ষই একে অপরকে আক্রমণ করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এই আবহে নেতাদের বক্তব্য ক্রমশ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কড়া ভাষার রাজনৈতিক লড়াই ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাররাই ঠিক করবেন, কে সঠিক এবং কাকে তারা ক্ষমতায় দেখতে চান।




















