শ্বেতাকে বাঁচাতে গিয়েই তলিয়ে যান রাহুল? পুলিশের হাতে দুর্ঘটনার এক্সক্লুসিভ ভিডিয়ো

দিঘা: তালসারিতে সমুদ্রে শ্যুটিং করতে গিয়ে আচমকাই জলে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হল জনপ্রিয় টেলি-অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই ঘটনায় গোটা টলিপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কিন্তু এই মৃত্যুকে ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Rahul drowning during Digha shooting

দিঘা: তালসারিতে সমুদ্রে শ্যুটিং করতে গিয়ে আচমকাই জলে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হল জনপ্রিয় টেলি-অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই ঘটনায় গোটা টলিপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কিন্তু এই মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দানা বেঁধেছে একাধিক রহস্য। সত্যিই কি সিরিয়ালের দৃশ্যের শ্যুটিং চলছিল, নাকি প্যাক-আপের পর অভিনেতা নিজেই সমুদ্রে নেমেছিলেন? পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কি আদৌ ছিল? এই সমস্ত প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?

মেদিনীপুর জেলা পুলিশের হাতে আসা শ্যুটিংয়ের ক্যামেরার ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রাহুল এবং তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র সমুদ্রের বেশ কিছুটা গভীরে চলে গিয়েছিলেন। আচমকাই ঢেউয়ের তোড়ে দু’জনেই পড়ে যান। শ্বেতাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ ছিলেন রাহুল। পরে তাঁকে উদ্ধার করে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

   

ওড়িশা পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, চোরাবালিতে তলিয়ে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটেছে। সহ-অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাহুল সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং কোনও রকম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন না।

একাধিক বয়ান, বাড়ছে ধোঁয়াশা!

রাহুলের মৃত্যু ঘিরে প্রত্যক্ষদর্শী এবং শ্যুটিং ইউনিটের সদস্যদের বক্তব্যে বিস্তর অসঙ্গতি মিলেছে, যা রহস্য আরও বাড়িয়েছে৷

শ্যুটিং না স্নান?

একাংশের দাবি, জলে সিরিয়ালের একটি নাচের দৃশ্যের শ্যুটিং হচ্ছিল। আবার অন্য একটি তত্ত্ব বলছে, প্যাক-আপের পর রাহুল জলে নেমেছিলেন। খোদ সিরিয়ালের লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, গভীর জলে শ্যুটিংয়ের কোনও দৃশ্যই ছিল না।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের মতে, সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা প্রথমে জলে পড়ে যান। তাঁকে বাঁচাতে গিয়েই তলিয়ে যান রাহুল।

ফিশারম্যান কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গাই জানিয়েছেন, শ্যুটিংয়ের জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, শেখর চক্রবর্তী নামে এক শ্যুটিং স্টাফের দাবি, অনুমতি ছিল। রাহুল সাঁতার জানতেন না, বারণ করা সত্ত্বেও তিনি জলে নামেন।

স্থানীয় এক নুলিয়া জানিয়েছেন, তিনি দু’জনকেই উদ্ধার করে বোটে তুলেছিলেন। অনেকের দাবি, জল থেকে তোলার পর রাহুলের জ্ঞান ছিল।

উধাও শ্যুটিং ইউনিট!

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, রবিবার রাতে কাঁথি থানার পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শ্যুটিং স্পটে গেলে ইউনিটের একজন স্টাফকেও খুঁজে পায়নি বলে খবর। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কেন ইউনিট গা ঢাকা দিল, তা নিয়ে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে।

ময়নাতদন্তে ভিডিওগ্রাফি

মৃত্যুর আসল কারণ জানতে তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রাহুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সোমবার দুপুরে তাঁর মরদেহ কলকাতায় নিয়ে আসা হবে।

এই আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন জগত। অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী, পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়-সহ টলিপাড়ার বিশিষ্টজনেরা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google